1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
১৯৯৪ সালের করাচি টেস্টে সেলিম মালিকের ফিক্সিং প্রস্তাবের অজানা অধ্যায় - আজকের কাগজ
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৯৪ সালের করাচি টেস্টে সেলিম মালিকের ফিক্সিং প্রস্তাবের অজানা অধ্যায় স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করায় সচিব মসিউর রহমানকে প্রত্যাহার গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় আহত পোশাকশ্রমিক হাসপাতালে মৃত জর্জিয়ার সিনেট আসনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কলিন্সকে হারিয়ে জয়ী ডেমোক্র্যাট জন অসফ তিন দিনের সফরে ঢাকায় চীনা সিপিসি মন্ত্রী লিউ হাইশিং ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপার খরা কাটাতে চায় বাংলাদেশ দেশের কর্মক্ষম মানুষের ৮৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন: বিশ্বব্যাংক আজকের যত খেলা ও দিনভর গুরুত্বপূর্ণ সব খবর ইসরাইলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা বন্ধ করবেন ট্রাম্প

১৯৯৪ সালের করাচি টেস্টে সেলিম মালিকের ফিক্সিং প্রস্তাবের অজানা অধ্যায়

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:৪২ এএম
শেয়ার করুন

১৯৯৪ সালের পাকিস্তান সফর দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মার্ক টেলর। করাচিতে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল ব্যাটিং-বান্ধব পিচে। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে ৩১৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে নেমে পাকিস্তান ৩ উইকেটে ১৫৫ রান তুলেছিল। ঐ দিন সন্ধ্যায় সতীর্থ টিম মে-র সঙ্গে রুমে অবস্থান করছিলেন অস্ট্রেলীয় লেগ স্পিন মহাতারকা শেন ওয়ার্ন। এমন সময় ফোন দিয়ে অতি জরুরি কথা আছে জানিয়ে ওয়ার্নকে নিজের রুমে ডেকে নেন পাকিস্তানি অধিনায়ক সেলিম মালিক। উইকেটটা ছিল একেবারে হাইওয়ে—ব্যাটিং স্বর্গ। আমি তখন টিম মের সঙ্গে একই রুমে থাকি। শোনো, আমি কি একটু কথা বলতে পারি?’ ‘নিশ্চয়ই, কী হয়েছে?’ ‘না, তুমি কি দয়া করে আমার রুমে আসতে পারো?’ ‘উম, কেন। আমি মের সঙ্গে বসে আছি।’ ‘না, না, এটা খুব জরুরি। লেগ স্পিনের ‘রকস্টার’ ওয়ার্ন, আর তাঁর চোখে সেরা ১১। আমি ভাবলাম, ব্যাপারটা তো গুরুতর মনে হচ্ছে। মে জানতে চাইল, কে ফোন করেছিল। ‘ইঁদুর’, বললাম আমি। ওকে আমরা এই নামেই ডাকতাম, দেখতে ইঁদুরের মতো লাগত বলে, এই জন্য না যে সে একজন ‘ইঁদুর’ (খারাপ মানুষ); অন্তত সেই সময় পর্যন্ত নয়। ফোনে তোমাকে খুব চিন্তিত লাগছিল।’ ‘কাল আমরা হারতে পারব না।’ ‘আহ, ঠিক আছে, আমি নিশ্চিত তোমরা জেতার চেষ্টা করবে, আর আমরাও জেতার চেষ্টা করব। জিততে হলে তাদের দরকার ৩১৪ রান। আমরা ধরে নিলাম, জন ব্যাপারটা আইসিসিকে জানিয়েছেন, কিন্তু আমরা পরে আর কিছু জানতে পারিনি। সেই টেস্ট থেকেই, ১৯৯৪ সালের করাচি টেস্ট থেকে, ক্রিকেটে ‘ম্যাচ ফিক্সিং’ শব্দটা পরিচিত হয়ে ওঠে। ফিক্সিং, বিদ্রোহ এবং ষড়যন্ত্রে ভরা ড্রেসিংরুম: পাকিস্তান ক্রিকেটের অস্থির অধ্যায়। কিন্তু ওর চাহনি দেখে বুঝলাম, সে সিরিয়াস। তবু বললাম, ‘মজা করছ নাকি?’ ‘আমি সিরিয়াস। ভেবে দেখো এবং কাল সকালের আগে আমাকে জানিও।’ ‘ভাবার কিছু নেই।

সেলিম মালিকের কক্ষে যাওয়ার পর পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নেয়। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী সাদা কুর্তা পরিহিত মালিক সোজাসুজি জানান, পরদিন যেকোনো মূল্যে হার এড়াতে চায় পাকিস্তান। পরাজয়ের পরিণতিতে দেশে ক্রিকেটারদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ওয়ার্ন যখন জানান যে উইকেটে স্পিন ধরছে এবং অস্ট্রেলিয়া জয়ের জন্যই খেলবে, তখন সেলিম মালিক আসল প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পরের দিন অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে বাজে বোলিং করে ম্যাচ ড্র করতে পারলে ওয়ার্ন ও টিম মে-কে আধা ঘণ্টার মধ্যে নগদ ২ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। লোকেরা আমাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেবে। তাই তোমাদের কাজটা বেশ কঠিন এবং সম্ভবত আমরাই জিতব।

মালিকের এই অস্বাভাবিক প্রস্তাবে হতবাক হয়ে যান শেন ওয়ার্ন। তিনি সরাসরি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং জানান যে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ জিততেই মাঠে নামবে। এর পর দ্রুত নিজের কক্ষে ফিরে এসে টিম মে-কে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন ওয়ার্ন। দুজনে মিলে তাৎক্ষণিকভাবে অধিনায়ক মার্ক টেলর ও কোচ বব সিম্পসনের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন। অধিনায়কের প্রথম টেস্টেই এমন অনৈতিক প্রস্তাবের মুখোমুখি হওয়া পুরো অজি দলের জন্য ছিল বড় ধাক্কা। বিষয়টির গাম্ভীর্য বিবেচনা করে বব সিম্পসন বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ রেফারি জন রিডের কাছে জমা দেন। রিড বিষয়টি আইসিসিতে জানানোর আশ্বাস দিলেও পরে অজিরা সেই নিয়ে আর কোনো অগ্রগতি জানতে পারেনি।

পঞ্চম ও শেষ দিনে ম্যাচটি রোমাঞ্চকর এক সমাপ্তির দিকে গড়ায়, যাকে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা টেস্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রথম ইনিংসে উইকেট পাওয়ার পর চতুর্থ দিন বিকেলে ওয়ার্ন নিয়েছিলেন ১টি উইকেট এবং শেষ দিনে তুলে নেন আরও ৪টি উইকেট। একপর্যায়ে ১৫৯ রান তুলতে পাকিস্তানের ৭ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। শেষ দিকে নবম উইকেটের পতন ঘটলে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৫৬ রান। জো অ্যাঞ্জেলের সুইং এবং ইনজামাম-উল-হকের লড়াকু ব্যাটিংয়ের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছিল। পাকিস্তানের অধিনায়ক স্বয়ং। ‘গুড ডে, মেইট, কেমন আছ?’ ‘খারাপ না, খারাপ না।

ম্যাচের চূড়ান্ত মুহূর্তে নাটকীয়তা চরমে পৌঁছায়। ইনজামামের বিরুদ্ধে করা একটি স্পষ্ট এলবিডব্লিউর আবেদন আম্পায়ার নাকচ করে দেন। জয়ের জন্য পাকিস্তানের যখন মাত্র ৩ রান দরকার, তখন লেগ স্টাম্পের বাইরে বড় টার্ন করিয়ে ইনজামামকে স্টাম্পড করার পরিকল্পনা করেন ওয়ার্ন। ইনজামাম লাইন মিস করলেও উইকেটকিপার ইয়ান হিলি তা গ্লাভসবন্দী করতে ব্যর্থ হন। বল বাউন্ডারিতে চলে গেলে চার বাই থেকে অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

ব্যক্তিগত অসামান্য পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচটিতে শেন ওয়ার্ন ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হলেও পরাজয়ের বেদনায় তিনি ভেঙে পড়েন। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে ওঠার সময় পরাজিত ওয়ার্নকে দেখে উপহাস করে সেলিম মালিক বলেন, টাকাটা গ্রহণ করলেই তাঁর জন্য ভালো হতো। ঘটনার আকস্মিকতায় ক্ষোভ হলেও নিজেকে সংবরণ করেন ওয়ার্ন। এই ঘটনার মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ‘ম্যাচ ফিক্সিং’ বিষয়টি ব্যাপকভাবে সামনে আসে। আশা করি, ভালো একটা ম্যাচ হবে।’ ‘না, না, তুমি বুঝছ না।

পরবর্তী সময়ে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও দেশটির আদালত সেলিম মালিককে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে। তদন্ত চলাকালে পাকিস্তানি আদালতে মালিক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে শেন ওয়ার্নকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, তিনি অজি তারকা মার্ক ওয়াহকেও একইভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। পাকিস্তান সফরে এসে মার্ক ওয়াহ সাক্ষ্য দিলে বিচার প্রক্রিয়ায় মালিকের অনৈতিক কর্মকাণ্ড চূড়ান্তভাবে উন্মোচিত হয়।

এই বিভাগের আরো খবর