1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
৫ আগস্ট পরবর্তী মামলা: সুযোগসন্ধানীদের দৌরাত্ম্য, যাচাইয়ের আশ্বাস - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
দেশে আসছে পেপ্যাল, ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার পাবেন পরিচয়পত্র : প্রধানমন্ত্রী নৌ অবরোধ তুলে নিলে ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব হবে না: ট্রাম্প অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা আমদানি করা হয়নি: প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বসতে যুক্তরাষ্ট্রকে যে শর্ত ইরানের শ্বশুরবাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে আশ্রয় নিলেন স্ত্রী ‎ক্লাস পরিক্ষা বন্ধ করে শিক্ষকদের আন্দোলন,ক্ষোভ ও হতাশায় ববির শিক্ষার্থীরা হিলিতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত মুন্সীগঞ্জে শ্রীনগরে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ৭ কুড়িগ্রামে ট্রলিচাপায় শিশুর মৃত্যু চলমান আন্দোলন নিয়ে ববি শিক্ষকদের মধ্যে মতভেদ, স্বাক্ষর ব্যবহার নিয়ে নিজস্ব ফেসবুক গ্রুপে প্রতিবাদ

৫ আগস্ট পরবর্তী মামলা: সুযোগসন্ধানীদের দৌরাত্ম্য, যাচাইয়ের আশ্বাস

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০৯ এএম
শেয়ার করুন

চব্বিশের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে উল্লেখযোগ্যভাবে মামলা দায়েরের প্রবণতা বেড়ে যায়। বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের একটি অংশের অভিযোগ—এই সময়কে ঘিরে ‘সুযোগসন্ধানী’ বা সুবিধাবাদী গোষ্ঠী পুরোনো বিরোধ ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব মেটাতে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করছে। অপরদিকে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘‘এটা ঠিক যে ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু মামলায় অনেক সুবিধাভোগী গ্রুপ নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করেছে। এগুলো যাচাই বাছাই করা হবে।’’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতরের সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এক থেকে দেড় বছরে দেশজুড়ে মামলা হয়েছে প্রায় ২২ হাজারের মতো। এর মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে অন্তত সাড়ে ৭ হাজার মামলা হয়েছে। হত্যা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে দেড় হাজারের মতো। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে এক হাজার ২০০টি। নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে দুই হাজারের বেশি। চুরি, দখল, মারামারিসহ নানা অভিযোগে মামলা হয়েছে আরও অন্তত ১০ হাজারের মতো।

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামে কমপক্ষে ৩৪৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২৯ হাজার ৭৭২ জনের নাম উল্লেখ করে ৬৫ হাজারের অধিক ব্যক্তিকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৪৯টি মামলায় ২২২ জন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে। এ সময়ে হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৮৩৪ জন সাংবাদিক। সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে ৪১টি।

ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের পর সারা দেশে নানামুখী উদ্যোগ, সংস্কার ও পরিবর্তন আসা সত্ত্বেও সহিংসতার দিক বিবেচনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে দৃশ্যমান ছিল। ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের মামলাগুলোর মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) এরই মধ্যে দাখিল করা হয়েছে বলে পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে। ২০ ভাগের কিছু বেশি মামলা এখনও তদন্তাধীন। কিছু মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) দিয়ে অনেককেই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত ও ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের কারণে কিছু ক্ষেত্রে নিরপরাধ ব্যক্তিরা স্বস্তি পেলেও গণহারে মামলার এফআইআরে নাম অন্তর্ভুক্তির প্রবণতা দেখা গেছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন, রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে আইন প্রয়োগে কঠোরতা দেখানোর ক্ষেত্রে স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হতেই পারে। সেটা তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানবাধিকার কর্মী ইজাজুল ইসলাম বলেন, ‘‘দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃঢ় হয় এবং মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।’’

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘বেশিরভাগ মামলাই বিভিন্ন ঘটনায় ভুক্তভোগীরা দায়ের করেছেন। অনেক মামলা আছে যেগুলো আগে করা যায়নি, এমন মামলাও রয়েছে। তবে ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি, মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণ করে চার্জশিট দেওয়া হচ্ছে। নিরপরাধ আসামি যুক্ত হলে তদন্তে তাদের বাদ দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু মামলায় অনেক সুবিধাবাদী গ্রুপ ভোগান্তিতে ফেলতে নিরীহ ও সাধারণ অনেক মানুষকে মামলায় জড়িয়েছে। পুলিশ বিভাগকে এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *