
শামীম আহাম্মেদ পেশায় একজন গাড়িচালক এক সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে ভালোই দিন কাটছিল তাদের। হঠাৎ শামীমের নাম্বারে অপরিচিত এক ফোন আসে, তার সাথে যোগাযোগ হয় এক নারীর নাম রিঙ্কু। প্রায় সময় ফোনে তার সাথে কথা হয় শামীমের। তখনো বুঝে উঠতে পারেনি এই নারী দ্বারা হানিটেপের মাধ্যমে তার বড় কোন ক্ষতি হতে পারে।
সুযোগ সন্ধানী রিঙ্কুও ছিলেন বিবাহিত তার স্বামীও প্রবাসী সেই সুযোগে কাজে লাগিয়ে প্রেমে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে শামীমকে। এ ঘটনা শামীমের স্ত্রী মিম জানার পারে রিঙ্কু কাছ থেকে সরে আসার চেষ্টা করলেই বাধে বিপত্তি। তখনি বের হয়ে আসে নারীর আসল রূপ নানা ভাবে শামীমকে হুমকি ধামকি ও মামলার ভয় দেখানো হয় চাওয়া হয় মোটা অংকের টাকা। না দিলে দেখানো হয় সালিশের মাধ্যমে বিচারের ভয় এতে মানুষিক ভাবে ভেঙে পড়ে শামীম। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই রিঙ্কু দলবল নিয়ে এসে গত ২৩ এপ্রিল ২০২৬ চাকুলিয়া সাকিনিস্থ শামীমের বসত বাড়িতে প্রবেশ করে একা পেয়ে বেধড়ক মারধর করে এ সময় গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত জখম হয় তিনি। পরে শামীম লোকলজ্জের ভয়ে রাগে ক্ষোবে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে চাউর উঠেছে ঘটে বড় একটি দুর্ঘটনা। ছয় বছরের শিশু মাহাবুব হারায় তার পিতা স্বামী হারায় মিম।
এ ঘটনা সাভার মডেল থানায় ছেলেকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় থানায় মামলা করেও বিপাকে বাবুল মিস্ত্রি আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় ভয়-ভীতি আর আতঙ্কের মাঝেই দিন পাড় করছে পরিবারটি। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষ নানাভাবে হুমকি ধমকি ভয়-ভীতি ও আপোষ করার জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যানের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয় তারা হলেন বিবাদী ১). রিংকু (২৫), ২) তাহের (৪৫), ৩) রাজীব (২৮), ৪) রোমান (৪০) , ৫) ফরহাদ (২৫), ৬) ফারদিন (২০), ও ৭) হান্নান (৫০),সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে। যার মামলা নং (97) তারিখ ২৫/৪/২০২৬।
মামলা হওয়ার পর থেকেই বাদির পরিবার এবং মৃত শামীমের স্ত্রীকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য লোভ দেখানো হচ্ছে অর্থেরও এর সাথে জড়িত রয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রহমান, তাহের, আখিল, রনি, তানজিল ও জুকুসহ স্থানীয় কয়েকজন। বিভিন্ন ভাবে মামলা তুলে নিয়ে আপোষ করার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী “আজকের কাগজকে বলেন, আমি আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। এটা কোন আত্মহত্যা নয়, পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে । আমি এর ন্যায় বিচার দাবি করছি আদালতের কাছে। আর অতি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা জন্য জোর দাবি করছে থানা পুলিশকে।
এ বিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি “আজকের কাগজকে” বলেন, মামলা তদন্ত চলছে। “আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বাকিদেরও গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে”। “পরিবারকে কেউ প্রভাবিত করছে কিনা তা জানা নেই। “যদি করে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা”।
মামলায় আপোষ মীমাংসা করার জন্য প্রভাবিত করার অভিযোগে বনগাঁও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি “আজকের কাগজকে” বলেন, আমি ভুক্তভুগি পরিবারকে প্রভাবিত করার কে! মামলা আপোষ বা আমি করব কেন, পুলিশ তদন্ত করবে আদালত নিষ্পত্তি করবেন আমি এখানে কে। তবে কিছু লোক এসেছিল তার কাছে তিনি তা স্বীকার করেন। তবে পাঁচ লাক্ষ টাকায় হত্যা মামলার আপোষ করিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি।