
‘নাগরিক মুক্তির বার্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) বন্ধুসভা।সেমিনারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্যের সত্যতা যাচাই, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল যুগে সংবাদমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ কাউছারের সভাপতিত্বে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের উদ্বোধনী পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দীন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, প্রথম আলোর কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি আব্দুর রহমান, বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয় ও জাইতুনের প্রতিনিধি এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভার অন্যান্য উপদেষ্টাবৃন্দ।
সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং কনসেন্ট ইন বাংলাদেশ’ বিষয়ে আলোচনা করেন সময় টেলিভিশনের সিনিয়র ব্রডকাস্টার ও বন্ধুসভা জাতীয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক। ‘প্রেস ফ্রিডম অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ে আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জনি আলম।
এছাড়াও ‘ডিকলোনাইজিং জার্নালিজম’ বিষয়ে আলোচনা করেন ফিচার রাইটারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোতাসিম বিল্লাহ। ‘প্রেস ফ্রিডম ইন ডিজিটাল এজ’ বিষয়ে আলোচনা করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমান। ‘দ্য প্রেস ফ্রিডম, ইনফরমেশন ডিসঅর্ডার অ্যান্ড ফিউচার অব ট্রুথ অ্যান্ড রাইট টু নো’ বিষয়ে আলোচনা করেন একই বিভাগের প্রভাষক মঈনুল রাকীব।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোতাসিম বিল্লাহ বলেন, ‘সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজ, সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে সঠিকভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একজন সচেতন সাংবাদিক তার লেখনী, সচিত্র প্রতিবেদন ও ডকুমেন্টারির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ছাড়া দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। অনেক সময় সঠিক তথ্য ও বাস্তবতা যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর প্রচারণা তৈরি হয়। তাই একজন সাংবাদিকের উচিত নিজ অঞ্চল, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার মাধ্যমে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।’
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক জাফর সাদিক বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন কোনো মিডিয়া নেই, যারা ক্ষমতাসীনদের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে না। শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন, তবে বাংলাদেশের মিডিয়াগুলোও অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থকেন্দ্রিক আচরণ করেছে। দেশের গণমাধ্যমগুলো মালিকানার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। বসুন্ধরা গ্রুপেরই আটটি মিডিয়া রয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে অনেক তথ্য সত্যতা যাচাই ছাড়াই প্রচার করা হতো। এর মাধ্যমে অনেক সময় প্রকৃত সত্য আড়াল করা হয়েছে। বর্তমান সময়েও সত্য প্রকাশ করতে গেলে সাংবাদিকদের নানাভাবে বাধার মুখে পড়তে হয়। ব্যক্তিগত আক্রমণ, সংবাদ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতা এবং নির্দিষ্ট দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের অভিযোগের মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়।’
সেমিনারের সভাপতি ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম আলো বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ কাউছার বলেন, ‘নাগরিক মুক্তির বার্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। মাত্র ১২ ঘণ্টায় ৯০টির বেশি রেজিস্ট্রেশন জমা পড়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি প্রত্যাশা করে। আমি আশা করি, নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরা বক্তাদের বক্তব্য থেকে উপকৃত হবেন। এ আয়োজন বাস্তবায়নে যারা অর্থ, শ্রম ও সময় দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’