1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতুসহ একগুচ্ছ মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

দ্বিতীয় যমুনা ও তৃতীয় মেঘনা সেতুসহ একগুচ্ছ মেগা প্রকল্পের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ ৫:৪২ পিএম
শেয়ার করুন

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে রাজধানীর যানজট নিরসন, সড়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একাধিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত, যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মহাসড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোর মাধ্যমে একটি মাল্টিমোডাল হাব গড়ে তোলার কাজ চলছে। সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে ৯৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের কার্যক্রমও পুনরায় চালু করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অটোমেটেড ফিটনেস সার্টিফিকেট ব্যবস্থা চালু এবং পেশাজীবী চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গড়ে তুলতে সম্ভাব্য করিডোরও চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি ৬টি মেট্রোরেল লাইনের সমন্বয়ে আধুনিক গণপরিবহন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযুক্ত মনোরেলভিত্তিক ফিডার নেটওয়ার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক ৯৪টি উন্নয়ন প্রকল্প পুনরায় চালু করা হয়েছে। পেশাদার চালকদের প্রশিক্ষণ এবং অটোমেটেড ফিটনেস সার্টিফিকেট ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও ইলেকট্রনিক টোল আদায়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।

এই ঘাটতি পূরণে সরকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।

‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পেশ করা এবারের বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী এই বাজেট পেশ করেন। এটি দেশের ৫৫তম এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এর আগে দুপুরে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে বাজেটটি অনুমোদিত হয় এবং রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এতে সম্মতি প্রদান করেন।

এই বিভাগের আরো খবর