
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী জবই বিলে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জবই বিলে বট, কৃষ্ণচূড়া ও বকুল গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরে বিলের পানি দূষণ রোধ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে পাখি চত্বর এলাকায় ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪৬ নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা রিয়াজ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাপাহার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী, সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান, উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান টকি , উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামিম আহমেদ, সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সোহানুর রহমান সবুজ, সভাপতি ফরহাদ, সাধারণ সম্পাদক কারিম এবং সহকারী সাধারণ সম্পাদক শামিম রেজাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জবই বিল শুধু একটি জলাভূমি নয়, এটি এলাকার পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ১১ বছর ধরে জবই বিলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জবই বিল জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সমাজ কল্যাণ সংস্থা। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে অব্যাহত থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জবই বিলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংস্থাটির সঙ্গে সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে তিনি আগ্রহী। অন্যদিকে সংস্থার প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করা হবে।
এ সময় সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সোহানুর রহমান সবুজ জবই বিলে একটি ইকো-ট্যুরিজম পার্ক এবং বিলের একটি অংশকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার দাবি তুলে ধরেন। উপস্থিত অতিথিরা এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং জবই বিলকে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।