
সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পরমাণু চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে নতুন এক শর্ত জুড়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলেই কেবল এই পরমাণু চুক্তি অনুমোদন পাবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির মধ্যে প্রস্তাবিত এই পরমাণু চুক্তি শুধুই বেসামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে। এর আওতায় সৌদি আরব কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক উপাদান সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এবং সৌদি আরবের মধ্যে এই বেসামরিক পরমাণু চুক্তি সইয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের বেসামরিক পারমাণবিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, রিয়াদকে এই প্রযুক্তি দেওয়া হবে। তবে পুরো বিষয়টিই নির্ভর করছে সৌদির আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার ওপর।
এদিকে, ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক অগ্রগতির স্মারক হয়ে থাকবে।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শর্তযুক্ত মন্তব্যের পর সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখনো প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। রিয়াদ অবশ্য আগে থেকেই তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।সৌদি প্রশাসনের মতে, স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট পথ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরমাণু চুক্তি সম্পর্কিত প্রাথমিক ঘোষণার সময় ট্রাম্প আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার শর্তটি প্রকাশ্যে উল্লেখ করেননি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে তিনি এই শর্তটি সামনে নিয়ে আসেন।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান, মরক্কো এবং কাজাখস্তান আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের অংশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
সূত্র: আল-জাজিরা