
বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় দায়ের করা একটি প্রতারণা মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম স্বপন।
জামিন পাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বহিষ্কারের দাবিকে ‘সম্পূর্ণ ভুয়া ও ফেক’ বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার আহ্বান জানান এই বিএনপি নেতা।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের কাছে দলীয় কর্মসূচির বিষয়ে অবহিত করে একটি চিঠি দেওয়া হয়। এতে পৌর বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম স্বপনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা স্বাক্ষর করেন।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভুয়া আইডি ও নথির মাধ্যমে প্রচার করা হয়, স্বপনসহ মোট ১৩ জন নেতাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাদের কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। ওই কথিত নথির ভিত্তিতে গতকাল মখলেসুর রহমান বকুল বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪১৯ ধারায় মামলা করেন।
জামিনের পর সংবাদ সম্মেলনে অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম স্বপন বলেন, “বিজ্ঞ আদালত সত্যতা যাচাই করে আজ আমাকে জামিন দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ ভুয়া ছিল। আমি পূর্বেও পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ছিলাম এবং আজও সেই পদে বহাল আছি।”
দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেছেন, আমি তাঁদের প্রতি আহ্বান জানাই—রাজনীতি করতে হলে মাঠে এসে রাজনীতির মাধ্যমে মোকাবিলা করুন। আমরা সবাই একই দলের সদস্য, একই মায়ের দুই ভাইয়ের মতো। দলের ভেতর বিভাজন সৃষ্টি করে বিএনপিকে দুর্বল করবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য নেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করা এবং তাঁর রাজনৈতিক দর্শন সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া। আমরা সবাই জিয়াউর রহমানের সৈনিক। ভবিষ্যতেও ঐক্যবদ্ধ থেকে আমরা সব দলীয় কর্মসূচি সফলভাবে পালন করব।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম স্বপনের প্রতি সমর্থন জানান।