
কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতিকালে পাঁচজনকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১৫। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তবে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম কচ্ছপিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৫-এর সিপিসি-১ (টেকনাফ) জানায়, মধ্যম কচ্ছপিয়া এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র সমুদ্রপথে কয়েকজনকে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করেছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানকারী দল নুরুল কবিরের বসতবাড়ির সামনের সড়কের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছালে সেখানে অবস্থানরত পাচারকারী চক্রের সদস্যরা র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করে রাখা পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ওই পাঁচজনকে নৌযানে করে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। তাদের বিদেশে পাচারের পর জবরদস্তিমূলক শ্রম ও সেবা আদায়ের উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা মিনি বাজার এলাকার সিফাত, সাইফুল ইসলাম, সাঈদ ও শামীম এবং টেকনাফ সদর উপজেলার গোদারবিল এলাকার আব্দুল হামিদ রয়েছেন।
র্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
র্যাব জানায়, অভিযানের সময় পাচারকারী চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া পাঁচজন এবং জব্দ করা মোবাইল ফোন পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টেকনাফের উপকূলীয় এলাকাকে ব্যবহার করে সমুদ্রপথে মানবপাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মানবপাচারসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।