1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
কচুর মোচায় সংসারের চাকা, সহায়তার অপেক্ষায় লাইলী - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
নতুন মামলায় ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সব ম্যাচ জয়ের ছক কষছেন কোচ ডুলি বাংলাদেশ-জাপান ৬টি চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মোশাররফ ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব বিএফআইইউর উখিয়ায় নলকূপের গ্যাসে আগুন, ৪০ ঘণ্টাতেও অধরা নিয়ন্ত্রণ জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখলে টেন্ডার বাজি-চাঁদাবাজি করা যাবে না: জাবের উৎপাদন খরচের চেয়ে দুধ-মাংসের বাজারমূল্য অনেক বেশি, সংসদীয় কমিটির নজরদারি গুম প্রতিরোধে সংবিধানে নতুন কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন নেই: সালাহউদ্দিন আহমদ পল্টন হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি, কুড়িগ্রাম-উলিপুরে জামায়াত-শিবিরের বিক্ষোভ ছাগলনাইয়ায় গৃহবধূ ও দুই শিশুকন্যাকে জিম্মি করে সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়

কচুর মোচায় সংসারের চাকা, সহায়তার অপেক্ষায় লাইলী

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:১২ পিএম
শেয়ার করুন

স্বামী থেকেও যেন নেই, সংসারে নেই কোনো উপার্জনক্ষম মানুষ। নেই ছেলে সন্তানও। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। এর মধ্যে এক মেয়ে স্বামীর সংসার ছেড়ে দুই সন্তানকে নিয়ে ফিরে এসেছেন মায়ের কাছে। ফলে নিজের সঙ্গে মেয়ে ও দুই নাতি-নাতনিকে নিয়ে চার সদস্যের সংসারের একমাত্র ভরসা এখন ৫০ বছর বয়সী লাইলী বেগম।

সংসারের চাকা সচল রাখতে বাড়ির উঠানের সামান্য জায়গায় শাক-সবজি চাষ করেন তিনি। সেই সবজি কাঁচাবাজারে বিক্রি করে যে সামান্য টাকা পান, তা দিয়েই চলে চারজনের খাবার, চিকিৎসা ও নিত্যদিনের খরচ। কোনো দিন সবজি বিক্রি হয়, কোনো দিন অবিক্রীতই থেকে যায়। তবুও থেমে থাকার সুযোগ নেই তাঁর। কারণ লাইলীর থেমে যাওয়া মানেই থেমে যাওয়া পুরো সংসারের চাকা।

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার গাঞ্জাকুড়ি গ্রামের লাইলী বেগমের জীবন এখন এমনই কঠিন বাস্তবতার গল্প।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাপাহার উপজেলা সদরের কাঁচাবাজারে অল্প কিছু কচুর মোচা নিয়ে বসেছিলেন লাইলী। বাজারে সবজি বিক্রির জন্য তাঁর নেই কোনো নির্দিষ্ট জায়গা। কখনো দোকানের সামনে ফুটপাতে, কখনো কোনো দোকানের এক কোণে, আবার কখনো মানুষের চলাচলের পাশেই বসতে হয় তাঁকে।

বাজারের ব্যস্ত কোলাহলের মাঝেও নিজের সামান্য সবজিগুলো সামনে সাজিয়ে নীরবে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। একজন-দুজন ক্রেতা আসছেন, দরদাম করছেন, কেউ কিনছেন, কেউ ফিরে যাচ্ছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও যখন সবজি বিক্রি হয় না, তখনও হতাশ হয়ে বাড়ি ফেরার উপায় নেই। কারণ এই সামান্য সবজিই তাঁর পরিবারের একমাত্র আয়ের পথ।

লাইলী বেগম বলেন, “আমার সংসারে আয় করার মতো কেউ নেই। বাড়ির উঠানে অল্প জায়গায় শাক-সবজি চাষ করি। সেগুলো বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাই। কিন্তু বাজারে এসেও বসার জায়গা পাই না। এভাবে আর কতদিন চলতে পারব জানি না।”

কথাগুলো বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লাইলী।

তাঁর কষ্টের তালিকাও দীর্ঘ। সংসারের চার সদস্যের খাবারের জোগান দেওয়ার পাশাপাশি বন বিভাগের সঙ্গে চলমান একাধিক মামলার খরচও বহন করতে হচ্ছে তাঁকে। একদিকে অভাবের সংসার, অন্যদিকে মামলার ব্যয়—সব মিলিয়ে প্রতিটি দিনই তাঁর কাছে একেকটি নতুন সংগ্রাম।

লাইলী বেগম আরও বলেন, “সরকারি বা কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সহযোগিতা পাইনি। যদি আমাকে একটা ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো, তাহলে সংসারটা একটু ভালোভাবে চালাতে পারতাম।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, লাইলীকে শুধু এককালীন আর্থিক সহায়তা দিলেই তাঁর সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। তাঁর সবজি চাষের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ, ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যবস্থা কিংবা নারীদের স্বাবলম্বী করার কোনো প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তিনি নিজেই পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবেন।

তাঁদের দাবি, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় লাইলী বেগমের জন্য ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাঁকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।

বড় কোনো পুঁজি নেই, নেই দোকান কিংবা পর্যাপ্ত জমিজমা। সম্বল বলতে বাড়ির উঠানের একচিলতে মাটি আর নিজের দুই হাতের পরিশ্রম। সেই মাটিতেই সবজি ফলিয়ে সংসারের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন লাইলী।

তাঁর চাওয়াটাও তাই খুব বেশি নয়—একটি ফ্যামিলি কার্ড, সামান্য সহযোগিতা আর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সুযোগ।

সেই সুযোগটি যদি তিনি পান, তাহলে হয়তো আজ কাঁচাবাজারের এক কোণে অল্প কিছু কচুর মোচা নিয়ে বসে থাকা লাইলী বেগমই একদিন হয়ে উঠবেন তাঁর পরিবারের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।

এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ বলেন, “লাইলী বেগমের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।”

এই বিভাগের আরো খবর