
গত ২১ শে মঙ্গলবার হয়ে গেল দ্বিতীয় ধাপে ষষ্ঠ লৌহজং উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এতে চেয়ারম্যান পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ শিকদার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম শোয়েব। বিজয়ের হাসি হেসেছেন বিএম শোয়েব। রশিদ শিকদার ২০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এই দুই প্রভাবশালী প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে আলাদা সুনাম রয়েছে।
আবদুর রশিদ শিকদার বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ঢাকার ঊষা ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক। আর বিএম শোয়েব শিল্প প্রতিষ্ঠান নান্নু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক। এসবের বাইরেও দুজন অনেক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন।রশিদ শিকদার ঝানু ও অত্যন্ত কৌশলী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত।
বিরোধী দলের আন্দোলন কর্মসূচি মোকাবিলায় খুবই পারদর্শী। কিন্তু উপজেলা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পেছনে নানা কারণ খুঁজছেন স্থানীয় মানুষজন। প্রথমত, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শিল্পপতি হওয়ায় নির্বাচনী রশিদ শিকদার ব্যায়ে পেরে ওঠেননি বলে মনে করা হয়। দ্বিতীয়ত, পদ্মা নদী থেকে রশিদ শিকদারের বালু উত্তোলনে জড়িত থাকার গুঞ্জন ছিল।
একে প্রতিপক্ষ নির্বাচনী প্রচারে বেশ কাজে লাগায়। এ কারণে পদ্মা পাড়ের ভোটাররা রশিদকে ভোট দেননি। তবে রশীদ সিকদার বালু উত্তোলনের সাথে তার কোনভাবে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান।
তৃতীয়ত, গত ১০ বছরে দলের ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড কমিটি গঠন কিংবা নির্বাচনের সময় বিশেষ গোষ্ঠীর পক্ষ নিয়ে অন্য পক্ষ কে ধরাশায়ী করার কারণে পদবঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিশেষ গত বছর জেলা পরিষদ নির্বাচনে লৌহজং থেকে প্রার্থী ছিলেন সিরাজুল ইসলাম মৃধা ও শেখ ইদ্রিস আলী। তখন সিরাজুল ইসলাম মৃধার পক্ষ নিয়ে তাঁকে জিতিয়ে আনেন রশিদ। এ জয়ের মূল কারিগর বলা হয় রশিদ শিকদারকে। এরপর থেকে পরাজিত প্রার্থীশেখ ইদ্রিস আলী ও সমর্থকেরা রশিদ শিকদারের উপর ক্ষীপ্ত ছিলেন।
এবার লৌহজং উপজেলা নির্বাচনে একজোট হয়ে রশিদ শিকদারের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছেন। পঞ্চমত, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএম শোয়েবের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর, গাঁওদিয়া ইউনিয়নের বনসেমন্ত এলাকায় বিএম শোয়েবের সমর্থকদের উপর রশিদ শিকদারের কর্মীদের হামলা পুরো উপজেলার ভোটারদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ।
Leave a Reply