
কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে ধারের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় সংঘবদ্ধ ‘ধর্ষণের’ পর লজ্জা ও ক্ষোভে ‘বিষপানে’ গৃহবধূর আত্মহত্যা ঘটনার প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকালে রাজিবপুর থানার ওসি আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শুক্রবার জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ এলাকা থেকে পৃথকভাবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আটক দুইজন হলেন, উপজেলার সদর ইউনিয়নের হলপাড়া গ্রামের আবু সামারের ছেলে জয়নাল মিয়া এবং টাঙ্গালিয়া পাড়া এলাকার মো. শহীদ আলীর ছেলে আলম হোসেন ওরফে আলম।এর আগে রাজীবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নে ধার নেওয়া টাকা পরিশোধ করতে না পারার সুযোগ নিয়ে কয়েকজন মিলে এক গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণ করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্যদের কাছে অভিযোগ করেও বিচার পাননি ভুক্তভোগী নারী। পরে লোকলজ্জার ভয়ে গত ২৪ মে দুপুরে ওই নারী ও তার স্বামী উভয় আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে’বিষপান করেন। এরপর স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে রাজীবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী কিছুটা সুস্থ হলেও অবস্থার অবনতি হয় ভুক্তভোগী নারীর। পরে তাকে জামালপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসা গ্রহণের পর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি দেখা দিলে হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ২৮ মে রাতে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এর পরদিন বুধবার দুপুরে মৃত্যু ভুক্তভোগী ওই নারীর। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। ওই দম্পতির দুই বছর বয়সী একটি সন্তান আছে।
ওসি আশিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় বুধবার থানায় নিহতের মামার তথ্যের ভিত্তিতে একটি ইউডি মামলা হয়। শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারীর মামা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি ধর্ষণ মামলা করেন।
এরপর আমরা বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। আসামিদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের মামলা রেকর্ড হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি দুজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply