
১৬ বছর পর রেকর্ড ৬ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। ইতিহাস গড়ে উপলক্ষটা স্মরণীয়ই করে রাখল টাইগাররা। ৩ ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয়টিতেও জিতে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৩৮ বছর পার করা বাংলাদেশ এই সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র একবারই হারাতে পেরেছিল। কার্ডিফে ২০০৫ সালে আশরাফুল হোসেনের বীরত্বপূর্ণ সেই ম্যাচের পর এবার এক সিরিজেই ২ জয় পেল বাংলাদেশ। আর সব প্রতিপক্ষ মিলিয়ে ঘরের মাঠে নিশ্চিত করল টানা ৫ সিরিজ জয়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় এই ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে ছোট হয়ে আসা ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান করে। ডিএলএস মেথডে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ৪১ ওভারে ১৯২ রান। ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই এই রান পেরিয়ে যায় টাইগাররা। এদিন প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের চতুর্থ বলেই ম্যাথিউ শর্টকে শূন্য রানে ফেরান তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমান ফেরান কুপার কনোলিকে। একই ওভারের শেষ বলে আউট হন ম্যাট রেনশও। মাত্র ২ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে শূন্য রানেই ধুঁকতে থাকে অজিরা।
এরপর জশ ইংলিস (৩৪) ও অ্যালেক্স ক্যারি (১৩) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও মুস্তাফিজুরের নিখুঁত বোলিংয়ে সেটিও বেশিদূর এগোয়নি। ২৫ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। তবে স্পিনার তানভীর ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট তুলে নিয়ে সেই জুটি ভেঙে দেন।
একপ্রান্ত আগলে রেখে মার্নাস লাবুশেন ৮৫ বলে অপরাজিত ৫৫ রান করেন। শেষদিকে জেভিয়ার বার্টলেটের ঝড়ো ৪৮ বলে ৫২ রানের ইনিংসে ভর করে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। তানভীর ইসলামের ঝুলিতে যায় দুটি উইকেট।
১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশও শুরুতে ধাক্কা খায়। দ্বিতীয় বলেই শূন্য রানে ফেরেন তানজিদ হাসান। তবে এরপর সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৬ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন।
সৌম্য ৪৭ বলে ৪২ রান করে আউট হলেও শান্তও সমান ৪২ রান করে দলের ভিত গড়ে দেন। পরে লিটন দাস ১৮ বলে ২১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন।
মধ্যভাগে তাওহিদ হৃদয় দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। ৫৫ বলে অপরাজিত ৪০ রান করে দলের জয়ের পথ সহজ করেন তিনি। শেষদিকে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ২২ বলে অপরাজিত ২২ রান করে হৃদয়কে সঙ্গ দেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৩৫ ওভারেই ৫ উইকেটে ১৯৫ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জেভিয়ার বার্টলেট, রাইলি মেরেডিথ, অ্যাডাম জাম্পা, ম্যাট রেনশও ও ক্যামেরন গ্রিন একটি করে উইকেট নেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া – ১৮৭/৮ (৪২ ওভার)
মার্নাস লাবুশেন ৫৫*, জেভিয়ার বার্টলেট ৫২; তাসকিন ৩/৩৩, মুস্তাফিজ ৩/২৭।
বাংলাদেশ – ১৯৫/৫ (৩৫ ওভার)
সৌম্য সরকার ৪২, নাজমুল হোসেন শান্ত ৪২, তাওহিদ হৃদয় ৪০*, মিরাজ ২২*।
ফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী।