
নওগাঁর মহাদেবপুরে হাসিনা বানু (৫৪) নামের এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মন্ডলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।
হাসিনা বানুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনায় জেলা জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
১৩ জুন শনিবার দুপুরে নির্যাতিতা গৃহবধু হাসিনা বানু বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়রা জানায়, ভূমি দখল ও নানাভাবে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় গাহলী বাজারে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে। বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মন্ডলের বিরুদ্ধে ভূমি দখলসহ নানা অভিযোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে হাসিনা বানু বক্তব্য দেন। নির্যাতিত ওই নারীর পরিবারের দাবি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এবং তার নির্দেশে ১৫-২০ জনের একদল কর্মী ও সমর্থক শুক্রবার সকালে মহিষবাথান সরদারপাড়ায় তার বসত বাড়িতে গিয়ে হাসিনা বানুকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ডাব গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মরিচের গুঁড়ো ছিঁটিয়ে দেয়া হয়। এসময় তার স্বামী তাকে বাঁচতে এগিয়ে গেলে তাকেও তারা মারপিটে গুরুতর আহত করে। এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাসিনা বানু ও তার স্বামী আহাদ আলী ওরফে বাবর আলীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন মণ্ডল বলেন, দলের একটি অংশের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন তিনি। তার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করতে একটি গ্রুপ হাসিনাকে ব্যবহার করে এ নির্যাতন নাটক সাজিয়ে তাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনার সাথে কোন ভাবেই তার সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও তিনি দাবী করেন। মহাদেবপুর থানার (ওসি) মোঃ ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মন্ডলসহ ৬ জনকে আসামী করে শনিবার দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত এ মামলায় কেউ গ্রেফতার নাহলেও আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।