
নওগাঁর মহাদেবপুরে ভূমি দখলের প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেয়ার জেরে হাসিনা বানু নামে এক নারীসহ তার পরিবারের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডলের নির্দেশে তাঁর সমর্থকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, ভূমি দখল, নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আব্দুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় গাহলী বাজারে এলাকাবাসী একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভের আয়োজন করে। ওই বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নিয়ে হাসিনা বানু প্রকাশ্যে বিএনপি নেতা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। অভিযোগ রয়েছে, মানববন্ধনের পরদিন শুক্রবার সকালে আব্দুল মতিনের নির্দেশে ১৫-২০ জনের একদল মানুষ হাসিনা বানুর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্যাতন করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারপিট করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মরিচের গুঁড়া প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগ এনে ফাঁসানোর চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই সময় হাসিনা বানুর স্বামী বাবর আলী বাধা দিতে গেলে তাকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসিনা বানু ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। হাসিনা বানু বলেন,তিনি মানববন্ধনে প্রকৃত সত্য ঘটনা তুলে ধরেছেন একারনে প্রতিশোধ নিতেই তার ওপর হামলা ও নির্যাতন করা হয়েছে।তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন।
মহাদেবপুর থানার এসআই মহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসিনা বানুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর শরীরে নির্যাতনের কিছু আলামত দেখা গেছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য কেনাবেচার অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে, মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওমর ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এদিকে এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল মতিন মণ্ডল মুঠোফোনে জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। দলের এক অংশ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। এটি একটি ষড়যন্ত্রের অংশ।