
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী আইন প্রয়োগ, খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় পরিচালিত অভিযান এবং বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালে ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মোট ২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং নিরাপদ খাদ্য অফিসার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের উপস্থিতিতে সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। এ সময় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং চারটি মামলা দায়ের করা হয়।
একই সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে আইন লঙ্ঘনের দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৬ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত পাবনা, বগুড়া, মাদারীপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নীলফামারী, লক্ষ্মীপুর ও মানিকগঞ্জে মোট ১৫টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে মোট ২৪ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ১৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ১৭ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং নিরাপদ খাদ্য অফিসারের উপস্থিতিতে সামারি ট্রায়াল পরিচালিত হয়। এ সময় কোনো জরিমানা আরোপ না করলেও তিনটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপদতা নিশ্চিত করতে সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিংও জোরদার করা হয়েছে। আলোচ্য সময়ে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২২০টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং পরিচালনা করা হয়।
এসব কার্যক্রমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, খাদ্যে সোডিয়ামের পরিমাণ কমানো, ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং, স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে চলমান কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডিব্লিউএইচও) রি-ক্যাপ মিশনের সঙ্গে পরামর্শ সভা করেছে বিএফএসএ।
গত ১৮ আগস্ট বিএফএসএর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম। এতে স্বাস্থ্যকর খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে খাদ্যনীতি ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বিএফএসএ ও ডিব্লিউএইচও-এর চলমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে ট্রান্সফ্যাটবিষয়ক ১৪ মিনিটের টিভিসি এবং ৪২ বার স্ক্রলবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক তিনটি পৃথক বার্তা মোট ৩৫ মিনিট প্রচারিত হয়েছে। এসব প্রচারণার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভোক্তাদের করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বিএফএসএ চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি খাদ্য ব্যবসায়ী ও উৎপাদকদের দায়িত্বশীল আচরণে উৎসাহিত করা, নিয়মিত মনিটরিং, গবেষণা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রমকে আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।
তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপদতার ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে। জনগণের নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিতে বিএফএসএর কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে।