
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে মানবিক সংকট, পুশ ইন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে যেন থমকে গেছে পাঁচ বাংলাদেশির জীবন। ভারত তাদের নিতে রাজি নয়, আবার বাংলাদেশেও প্রবেশ করতে পারছেন না তারা। ফলে টানা সাত দিন ধরে আন্তর্জাতিক সীমান্তের শূন্যরেখা বা নো ম্যানস ল্যান্ডেই মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিক।
অভিযোগ উঠেছে, গত ১৪ জুন ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ ইন) চেষ্টা করে। তবে বিজিবির কড়া অবস্থান ও স্থানীয়দের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, গয়টাপাড়া ও ভন্দুচর সীমান্তের দুই নো ম্যানস ল্যান্ডে বর্তমানে পাঁচ বাংলাদেশি আটকে রয়েছেন। খোলা আকাশের নিচে দিন-রাত কাটছে তাদের। স্থানীয় বাসিন্দারা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলেও নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
এর আগে বিএসএফ এক নারী, তিন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। পরে নারী ও দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজনকে সীমান্তে আর দেখা যায়নি। তাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য না মিললেও স্থানীয়দের ধারণা, মানবিক কারণে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে ভন্দুচর সীমান্তে আটকে থাকা তিন যুবকের দাবি, দালালের মাধ্যমে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে ভারতের গৌহাটি এলাকায় আটক হওয়ার পর ভারতীয় পুলিশ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। এরপরই তাদের বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হয়।
বর্তমানে সীমান্তে অবস্থানরতদের মধ্যে রয়েছেন ময়মনসিংহের সজীব মিয়া ও হিমেল মিয়া, সুনামগঞ্জের জহিরুল ইসলাম, নেত্রকোনার পারভেজ এবং ময়মনসিংহের নাঈম।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানিয়েছেন, পুশ ইনের চেষ্টার শিকার নয়জনের মধ্যে পাঁচজন এখনো নো ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সাত দিন ধরে সীমান্তে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত সমাধান না হলে মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। সীমান্তের কাঁটাতারের মাঝখানে আটকে পড়া এই পাঁচ বাংলাদেশির একটাই প্রশ্ন—”আমরা আসলে কোন দেশের মানুষ?”