
দশ দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন কাটানোর পর হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেছেন দুই বাংলাদেশি যুবক। বিএসএফের পুশ ইনের শিকার হয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে আটকে থাকা সজিব ও হিমেলকে মঙ্গলবারের পর আর দেখা যায়নি। তাঁদের অন্তর্ধান ঘিরে সীমান্তজুড়ে তৈরি হয়েছে রহস্য।
স্থানীয় সূত্র বলছে, মঙ্গলবার দুপুরে ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে সীমান্ত এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। সেই সময়ই শেষবারের মতো দেখা যায় দুই যুবককে। এরপর থেকে তাঁদের কোনো খোঁজ মেলেনি। তাঁরা নিজ উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, নাকি অন্য কোনোভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।
নিখোঁজ দুই যুবক সজিব হোসেন (২৫) ও হিমেল মিয়া (১৮) ময়মনসিংহের বাসিন্দা। গত ১৪ জুন ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তাঁরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছিলেন।
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানিয়েছেন, গয়টাপাড়া সীমান্তে বর্তমানে কেউ অবস্থান করছেন না। তবে ওই দুই যুবকের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ঘটনার শুরু ১৪ জুন। ওই দিন রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ মোট ৯ বাংলাদেশিকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয় জনতা ও বিজিবির বাধায় তাঁরা বাংলাদেশে ঢুকতে ব্যর্থ হন। ফলে সীমান্তের শূন্যরেখাতেই আটকে পড়েন সবাই।
মানবিক সংকটের খবর “ডেইলি বাংলা পোষ্ট” সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর গত ১৮ জুন এক দম্পতি ও তাঁদের দুই শিশুকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু সজিব ও হিমেল থেকে যান সীমান্তেই। অবশেষে ১০ দিন পর তাঁদেরও আর দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে রৌমারীর ইজলামারী সীমান্তে এখনো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন আরও তিন বাংলাদেশি যুবক। তাঁরা হলেন জহিরুল ইসলাম (২৬), পারভেজ (২১) ও নাঈম মিয়া (২২)। বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টার পর তাঁরাও শূন্যরেখায় আটকে রয়েছেন।
সীমান্তে বিজিবির নজরদারি অব্যাহত থাকলেও দুই যুবকের রহস্যজনক অন্তর্ধান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রৌমারী সীমান্তে এখন একটাই প্রশ্ন—শূন্যরেখা থেকে উধাও হওয়া সজিব ও হিমেল কোথায়?