1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
শিক্ষার জ্যোতিষ্ক অধ্যাপক সাবিহা সুলতানার বিদায়, নীরব সাধনার এক আলোকিত অধ্যায় - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
দেশের সব প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতি ফ্যাসিস্ট সরকার ধ্বংস করে গেছে : প্রধানমন্ত্রী ডিএনসিসির সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ভিসার মেয়াদ সীমিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন খেলাপির জামিনদার হলেও প্রার্থিতা বাতিল করবে ইসি শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই, দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ম্যারাডোনাকে জয় উৎস্বর্গ করে মেসি বললেন ‘ফাইনাল হবে সমানে সমান’ কুড়িগ্রামে নিজ ঘরে আগুন দিয়ে অস্ত্র হাতে যুবকের তাণ্ডব বেরোবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহিদ দিবস ২০২৬ পালিত ববি হলে শিবিরকর্মীর ওপর মব সৃষ্টি, ছাত্রদল সভাপতিসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ ‘এক্সিট পলিসি’ চালু

শিক্ষার জ্যোতিষ্ক অধ্যাপক সাবিহা সুলতানার বিদায়, নীরব সাধনার এক আলোকিত অধ্যায়

জিসান আহমেদ কাব্য
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫ ৪:০৫ পিএম
শেয়ার করুন
কুমিল্লার এক নির্জন সকাল থেকে শুরু হয়ে সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের দীর্ঘ পথচলা—৩১ বছর ৫ মাসে অধ্যাপক সাবিহা সুলতানা যেভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা শুধু একটি পেশা নয়, এক নিভৃতে গড়া জীবনযাত্রার পরিচায়ক।
শিক্ষকতা তাঁর কাছে ছিল নীরব সাধনা, যার পথে কখনো আলোর খোঁজে দিগন্তরেখা হারাননি। শুরু হয়েছিল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে, যেখানে পাঠদান ছাড়াও ছাত্রজীবনের নানা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতেন তিনি। পরবর্তীতে ইডেন কলেজ ও ধামরাই সরকারি কলেজে গিয়ে শিক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষকমণ্ডলীর দায়িত্ব পালন করে অসাধারণ অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার তৈরি করেন।
২০১০ সালে সরকারি বাঙলা কলেজে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। কেবল পাঠদানই নয়, সাহিত্য ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে স্পোর্টস কমিটির নানা কাজেও তার নিবেদিত অবদান শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে সহায়ক হয়েছে।
শিক্ষার বাইরে বিতর্ক, মঞ্চ ও আত্মবিশ্বাস গঠনের অনুপ্রেরণা হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের কাছে তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত উৎস। তাঁর পরিবারেও যেন পরিপূর্ণতার ছবি—ছেলে দেশের বিমান বাহিনীতে স্কোয়াড লিডার, মেয়ে এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী, আর ছোট মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাচ্ছে। জীবনসঙ্গী একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী।
অবসরের এই সময়ে অধ্যাপক সাবিহা সুলতানা লিখালেখি ও ভ্রমণে মনোযোগ দেবেন বলে জানালেও, শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা ও দোয়া তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, “জীবনে তিনটি বড় অর্জন—স্বাস্থ্য, সম্মান আর হৃদয়ের প্রাপ্তি—এই তিনটি আমি পেয়েছি বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।”
বিদায়ের রূপরেখায় তিনি স্বপ্ন দেখেন নতুন সূচনার, যেখানে ভালোবাসা ও স্মৃতির অমলিন বন্ধন থাকবে। তাঁর বিদায়ের এই গান যেন শিক্ষার অমলিন আলো হয়ে শিক্ষার্থীদের পথপ্রদর্শক থেকে যায়:
“শিক্ষার আলো জ্বেলে যাই যত দিন,
হৃদয়ে ভালোবাসার অমলিন চিরস্মরণ।
বিদায় নয়, নতুন সূচনার গান,
জীবনের পথে ভালোবাসার প্রাণ।”
অধ্যাপক সাবিহা সুলতানার এই বিদায় শুধু একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং ভালোবাসার এক অনন্ত সেতুর শুরু—যা শিক্ষার অমলিন আলো বহন করে অগণিত জীবনে প্রেরণার মঞ্চ তৈরি করবে।
সর্বশেষ কয়েকজন শিক্ষার্বথী বলেন মো: হুমাইয়ুন কবির, সমাজকর্ম বিভাগের  মাষ্টার্স ২১-২২ এর ছাত্র: “অধ্যাপক সাবিহা ম্যাম আমাদের জন্য শুধু একজন শিক্ষক নন, বরং এক অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি আমাকে কেবল বইয়ের জ্ঞান দিয়েছেন না, বরং জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহস দিয়েছেন। তার ছাড়া আমাদের কলেজের জীবন অসম্পূর্ণ ছিল।”
গাজী মোমেনুর , সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ বর্ষ ছাত্র: “ম্যামের উপস্থিতি সবসময়ই আমাদের ক্লাসে এক বিশেষ আত্মবিশ্বাস এনে দিত। বিতর্ক, মঞ্চ কিংবা সাধারণ পড়াশোনায় তার দিকনির্দেশনা আমাদের অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে। তার বিদায় আমাদের জন্য বড় এক শূন্যতার কারণ, তবে তার শিক্ষাগুলো আমরা জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কাজে লাগাব।”
আশরাফুল ইসলাম রাব্বি, সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর চতুর্থ বর্ষ ছাত্র: “আমি সদ্য ম্যামের কাছে পড়াশোনা শুরু করেছি, কিন্তু এত কম সময়ে তার আন্তরিকতা, মমতা আর শিক্ষা পেয়ে অভিভূত হয়েছি। তার মতো শিক্ষক খুব কমই পাওয়া যায়। তার এই অবসরের পরও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন যেন অব্যাহত থাকে।”
এভাবেই শিক্ষার্থীরাও অধ্যাপক সাবিহা সুলতানার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন, যিনি শিক্ষার জগত থেকে বিদায় নিচ্ছেন না, বরং ভালোবাসায় বাঁধা থাকার এক অসাধারণ গল্প রেখে যাচ্ছেন।
এই বিভাগের আরো খবর