
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার শিকার নারী-শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির অনিশ্চয়তা কাটছে না। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাদের বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকও ফলহীন থাকায় শূন্যরেখার কাছেই আটকে রয়েছেন তারা।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরের পর পর্যন্ত ওই ৯ জনের অবস্থান নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটছে তাদের। বিষয়টি ঘিরে সীমান্ত এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, রোববার ভোরে রৌমারীর গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে একজন নারী, তিনজন পুরুষ ও দুই শিশুসহ ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালায় বিএসএফ। একই সময়ে ভেন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও তিনজনকে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা শূন্যরেখার কাছে অবস্থান নেয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার দুপুরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তি না হওয়ায় জটিলতা কাটেনি।
বর্তমানে ওই ৯ জন ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়ার পাশেই অবস্থান করছেন। সীমান্তে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবি ও বিএসএফ নজরদারি জোরদার করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নারী ও শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে দেখে তারা উদ্বিগ্ন। মানবিক বিবেচনায় দ্রুত বিষয়টির সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘পতাকা বৈঠক হয়েছে, তবে এখনো কোনো সমাধান হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সীমান্ত ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে শূন্যরেখায় আটকে থাকা ৯ বাংলাদেশির ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে যাচ্ছে, তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন সীমান্তবাসী। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা নারী-শিশুসহ এসব মানুষের মানবিক নিরাপত্তা নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।