1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা: প্রধানমন্ত্রীর সফর - আজকের কাগজ
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
ক্যাডেট কলেজে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি আবেদন শুরু, পরীক্ষা ২০০ নম্বরে ইসরাইলি নির্বাচনে অচলাবস্থা, কেন ব্যালটে ছিল না গাজা সঞ্চয়পত্র, এফডিআর ও ডাকঘর সঞ্চয়: কোথায় কত মুনাফা ও কেমন ঝুঁকি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে তেল কোম্পানিগুলো মুনাফা লুটছে: বার্নি স্যান্ডার্স বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মৃত্যু: তদন্তে নতুন রহস্যময় তরুণী দাবি না মানলে এক দফা অনিবার্য হবে: কুষ্টিয়ায় শফিকুর রহমান নতুন পে-স্কেল ও উৎসব ভাতার দাবিতে সিলেটে শিক্ষকদের বিক্ষোভ ঢাবি যদি অক্সফোর্ড হয়, রাবিকে ক্যামব্রিজ করতে হবে: রিজভী পল্টনে সাবেক আইজিপির ছেলের গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালক আহত পরবর্তী সংসদ অধিবেশনেই পাশ হবে সৌরবিদ্যুৎ আইন: জ্বালানিমন্ত্রী

সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা: প্রধানমন্ত্রীর সফর

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৮:১০ এএম
শেয়ার করুন

আঞ্চলিক ও বিশ্ব ভূরাজনীতির পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক একটি নতুন গতি লাভ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ ব্যক্ত করেছে জাপানি উদ্যোক্তারা। দ্বিপক্ষীয় এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের অটোমোবাইল, উৎপাদন খাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে এশিয়ার দেশগুলোর সম্পর্ক ভিন্নমাত্রা লাভ করেছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় জানা গেছে যে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বিশেষ করে অটোমোবাইল, অন্যান্য ম্যানুফ্যাকচারিং খাত এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে জাপান ও জাপানের উদ্যোক্তারা, যার।

দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের মূল আলোচনায় উঠে এসেছে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টি। এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প এবং জ্বালানি খাতের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে সমন্বিত অংশীদারত্ব জোরদার করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। জাপানের সঙ্গে আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট’ (ইপিএ) এর বাস্তবায়ন, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের ক্ষেত্রে সহায়তার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবে। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের ব্যাপারে চিন্তা করা যেতে পারে। নতুন বিনিয়োগ ও এর পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। জাপান যেভাবে এশিয়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে সুযোগ করে দিচ্ছে।

জাপানের বিগ-বি (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট) উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলকে অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে গভীর সমুদ্রবন্দর, আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সড়ক, রেল ও নৌপথ সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোর উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৪০টি জাপানি প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করছে, যাদের অধিকাংশই তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করতে উৎসাহী। বর্তমানের বিনিয়োগকে সম্প্রসারণ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের খাতভিত্তিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করা প্রয়োজন।

প্রথাগত রপ্তানি বাজারের বাইরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে জাপানের মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ বেড়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, হিমায়িত খাদ্য ও কৃষিপণ্যের মাননিয়ন্ত্রণ ও ছাড়পত্র প্রক্রিয়ায় জাপানের কারিগরি সহায়তা পেলে বাংলাদেশ রপ্তানি বাণিজ্যে আরও এগিয়ে যেতে পারবে। এ ক্ষেত্রে দেশটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত দ্রব্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত পণ্য, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ইত্যাদির সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ছাড়পত্র তৈরি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গুণগত মান নিশ্চিতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করতে পারে।

জাপানি বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা, ধীরগতির আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, কাস্টমস ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং অবকাঠামো ও জ্বালানি সংকটের সমাধান না হলে বড় অঙ্কের বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে অবিলম্বে এসব বাধা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলো যেমন প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা, অবকাঠামোগত সমস্যা, অর্থাৎ কাঠামোগত সমস্যাগুলো কাটিয়ে না উঠতে পারলে জাপানি বিনিয়োগের সুবিধা নেওয়া সম্ভব হবে না। মূলত সার্বিকভাবে বিনিয়োগবান্ধব অবকাঠামো ও ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার মাধ্যমেই শুধু জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া যেতে পারে।

জাপানের জনসংখ্যা কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে সেখানে এখন গুরুতর শ্রমিক সংকট ও প্রবীণ পরিচর্যা কর্মীর প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলেও অতীত নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাব ও সমন্বয়হীনতায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। এই শ্রমবাজার ধরার জন্য এখন কৌশলগত পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

জাপানে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর প্রাথমিক শর্ত হলো ভাষা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ। বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সুলভে জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং আন্তব্যক্তিক যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধির কোর্স চালু করতে হবে। মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত না করতে পারলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্যান্য প্রতিযোগীদের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।

বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মধ্যস্বত্বভোগী ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে। জাপানি নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং সরকারি তদারকিতে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

জাপানের শ্রমবাজারে دقیقا কোন কোন ক্ষেত্রে কর্মী প্রয়োজন এবং কাজের শর্ত ও দক্ষতা কেমন, সে বিষয়ে নিয়মিত সমীক্ষা চালানো দরকার। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দেশীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে সাজাতে পারলে তবেই মানবসম্পদ রপ্তানিতে সুনির্দিষ্ট সাফল্য আসবে।

ঐতিহাসিকভাবেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বন্ধু দেশ। ঐতিহাসিক এই বন্ধুত্ব ও কূটনৈতিক অবস্থানকে প্রকৃত অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তর করতে হলে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানো এবং সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

এই বিভাগের আরো খবর