
বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের বিদায়ের শেষ বাঁশি যেন এক সমর্থকের জীবনে নেমে আনল চরম বিপর্যয়। প্রিয় দলের হারের ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন কুড়িগ্রামের ব্রাজিল সমর্থক আলমগীর হোসেন (৩৫)। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত থাকলেও চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শুরু হওয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই এ ঘটনা ঘটে।
আলমগীর হোসেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিজ বাড়িতে বন্ধু ও এলাকার অন্য ব্রাজিল সমর্থকদের সঙ্গে টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি দেখছিলেন আলমগীর। শুরু থেকে প্রতিটি আক্রমণে উচ্ছ্বাস, প্রতিটি সুযোগে আশার আলো—সবকিছুই ছিল তার চোখেমুখে। কিন্তু ম্যাচে ব্রাজিল পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি অস্বাভাবিকভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খেলা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আলমগীরের বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। সঙ্গে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট ও অস্বস্তি। একপর্যায়ে তিনি মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, “অতিরিক্ত আবেগ, মানসিক চাপ কিংবা হঠাৎ তীব্র উত্তেজনা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি। খেলাধুলা আনন্দের বিষয়। জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে নেওয়াই উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আলমগীর হোসেন বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত করতে তাকে আরও কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।”
বিশ্বকাপ ঘিরে দেশের কোটি কোটি সমর্থকের আবেগের মধ্যেই কুড়িগ্রামের এ ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল—খেলার মাঠের হার-জিত ক্ষণিকের, কিন্তু অতিরিক্ত আবেগ কখনও কখনও জীবনের জন্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে।