
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে দেশীয় তৈরি ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ অস্ত্র তৈরির সরাঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় নারীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার দিবাগত রাতে মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়াপাড়া ও খালকাচা পাড়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। দুর্গম এলাকা হওয়ায় প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশের সদস্যরা।
সোমবার (১৪সেপ্টম্বর) দুপুরে থানা পুলিশের এক প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল আজিজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
থানার প্রেস সূত্রে জানাগেছে, রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, বদরখালী ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়া পাড়া এলাকায় একটি বসতঘরে একদল ডাকাত ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়।
দুর্গম এলাকায় পুলিশের অভিযান সংবাদটি থানার ওসি মো: আরিফুর রহমানকে অবহিত করা হলে তিনি অভিযানিক টিমসহ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। ঘটনাস্থলে যাতায়াতের রাস্তা দুর্গম হওয়ায় গাড়ি রেখে পুলিশ সদস্যরা প্রায় ২ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে রাতের অন্ধকারে কৌশলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি ঘেরাও করেন।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে অভিযানিক টিম তাদের আটক করে। এ সময় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ডাকাত পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ওই সময় পুলিশের অভিযানে কুখ্যাত রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মোঃ সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০) ও জহুরা বেগম (৪৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ১টি দেশীয় তৈরি দুইনালা রাইফেল, ১টি দেশীয় তৈরি একনালা রাইফেল, ১টি দেশীয় শর্টগান, ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ২ রাউন্ড তাজা শর্টগানের কার্তুজ, ২ রাউন্ড শর্টগানের কার্তুজের খোসা, ১টি ক্লিনিং রড, অস্ত্র ও গুলি তৈরির সরঞ্জাম, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও ৩টি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খালকাচা পাড়ায় দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় শহর বানু নামে আরও এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ির পেছনের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অস্ত্র তৈরি ও কেনাবেচার পাশাপাশি বিভিন্ন ডাকাত দলের কাছে অস্ত্র ভাড়া দিয়ে আসছিল। এসব অস্ত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল আজিজ জানান, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। অস্ত্র ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।