1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
জাল সনদ দিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর সরকারি চাকরি - আজকের কাগজ
রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
চূড়ান্ত হলো বেতন কাঠামো, সর্বনিম্ন বেতনের দ্বিগুনেরও বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব বাংলাদেশ নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সমর্থন করে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হাসনাতের আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের আকুতি শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত বেরোবি কেন্দ্রে রাবি ভর্তি পরীক্ষায় মোবাইল ও পকেট রাউটারসহ পরীক্ষার্থী আটক ঢাকার উত্তরায় অগ্নিকাণ্ডে বাবা–ছেলেসহ নিহত তিনজনের চৌদ্দগ্রামে দাফন সম্পন্ন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সেনাবাহিনীর অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২ নওগাঁয় শিশু সন্তানকে নদীর পানিতে ফেলে দিল মা, উদ্ধারকারীকে পুরস্কৃত করল পুলিশ কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) কর্তৃক ৭৬ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা মুল্যের অবৈধ ভারতীয় বাজি উদ্ধার

জাল সনদ দিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর সরকারি চাকরি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৪
শেয়ার করুন

মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ দিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে সরকারি চাকরি করছেন কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম আকন্দ। তিনি নিজ নানাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে পোষ্য কোটার জাল সনদ দাখিল করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা কৃষি অফিসে দ্বিতীয় শ্রেণি পদমর্যাদার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি।

আবুল কাশেম আকন্দ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার জগদীশ গ্রামের মৃত নিজামুদ্দিন আকন্দের ছেলে।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের সত্যতা যাচাই করতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করেছেন বগুড়ার আটমুল উপজেলার পইয়াগাড়ী গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তিনি মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক, দুদক ও জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে এ অভিযোগ দায়ের করেন। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্পূর্ণ জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদ দিয়ে নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য কোটায় চাকরি নিতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন আবুল কাশেম। তিনি নিজের মা সাহার বানুকে শিবগঞ্জের আটমুল কুঞ্ছিথল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নবিরউদ্দিন আকন্দের কন্যা এবং নিজেকে নাতি বানিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য কোটায় অবৈধ পন্থায় চাকরি নেন।

মুক্তিযোদ্ধা বংশের কেউ না হয়েও পোষ্য কোটার জাল সনদ তৈরি করে আবুল কাশেম সর্বপ্রথম ২০১৩ সালের ১২ আগস্টে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলায় যোগদান করেন এবং সেখান থেকেই সর্বপ্রথম সরকারি বেতনভাতা নেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে তিনি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত আছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি অফিসে আবুল কাশেমের প্রকৃত তথ্য চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলেও আবুল কাশেম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তথ্য গোপন রেখেছেন বলে জানা যায়।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, মুক্তিনামা-১৬৬৬-০১১০০০০৫১৩৫ নম্বর গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা নবীরউদ্দিন আকন্দের সঙ্গে অভিযুক্ত আবুল কাশেমের নানার নামের কোনো মিল নেই। মুক্তিযোদ্ধা নবীরউদ্দিনের ওয়ারিশ হিসেবে স্ত্রী আছিমন বিবি, এক মেয়ে আনেছা বিবি ও এক ছেলে আনিছুর রহমান রয়েছে। অথচ অভিযুক্ত আবুল কাশেমের আসল নানার নাম নজরুল ইসলাম। নানার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্য ৯ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন এক স্ত্রী রাবেয়া ও পাঁচ মেয়ে- সাহার বানু, আফিয়া, নার্গিস, মোরশেদা, নাদিরা এবং তিন ছেলে- মো. আতাউল হক, মো. আলম মিয়া ও মো. আজম আলি রয়েছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নবীরউদ্দিনের বংশের সঙ্গে আবুল কাশেমের নানার বংশে কোনো যোগসূত্র নেই। তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নবীর উদ্দিনের নাম ও ঠিকানা জালিয়াতি করে নিজ নানা নজরুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে জাল সনদ তৈরি করে সরকারি চাকরি হাতিয়ে নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বীর মুক্তিযোদ্ধা নবীরউদ্দিন ও তার পরিবার।

জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়া আবুল কাসেম সম্পর্কে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা নবীরউদ্দিন আকন্দ জানান, সাহার বানু না তার ঔরসজাত মেয়ে এবং নানা আবুল কাশেম তার নাতি। সনদ জালিয়াতি করে আবুল কাশেম ঘোরতর অপরাধ করেছে এবং তার মান ক্ষুণ্ণ করেছে। রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাৎ করার অপরাধে তার বিচার দাবি করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে আটমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন বলেন, ‘আবুল কাশেম কিভাবে ওয়ারিশ সনদ নিয়েছে তা আমার জানা নেই। আমার সই করা এখনকার দুটি ওয়ারিশ সনদের তথ্য সঠিক। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, আবুল কাশেম বীর মুক্তিযোদ্ধা নবীরউদ্দিনের বংশের কেউ না।’

মুক্তিযোদ্ধার কোনো সনদ না থাকা সত্ত্বেও কিভাবে পোষ্য কোটায় চাকরি পেলেন জানতে চাইলে আবুল কাশেম বলেন, ‘চাকরির সময় আমার সঠিক সার্টিফিকেট জমা দিয়েছি।’

পুলিশ ভেরিফিকেশন কিভাবে হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যথানিয়মে ভেরিফিকেশন করে নিয়েছি।’

তবে তার নানার বংশে বীর মুক্তিযোদ্ধা থাকার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. রাহেলা পারভীন বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। জেলা প্রশাসক যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেই পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে।’

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *