1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
ট্রাম্প-উত্তর রাজনীতিতে কি ফিরবে পুরনো সৌজন্যের দিন? - আজকের কাগজ
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ট্রাম্প-উত্তর রাজনীতিতে কি ফিরবে পুরনো সৌজন্যের দিন? গ্যাসের দাম ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ নির্বাচনী ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ ভৈরব নদের ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে খুলনার ঐতিহ্যবাহী লোহাপট্টি সিলেট টেস্টে উইন্ডিজ ব্যাটারদের দাপট, চাপে বাংলাদেশ ডিএমপি: জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তিনজনের বিচার শুরুর নির্দেশ আদালতের ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা বিচার বিভাগে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বড় সংকট: আইনমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মের বিদেশমুখী হওয়ার নেপথ্যে কী?

ট্রাম্প-উত্তর রাজনীতিতে কি ফিরবে পুরনো সৌজন্যের দিন?

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৫:৩৯ পিএম
শেয়ার করুন

সম্প্রতি টেক্সাসে ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে প্রায় চার দশকের খরা কাটিয়ে সিনেট আসনে জয়লাভের পর নবনির্বাচিত সিনেটর জেমস ট্যালারিকো মার্কিন রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন যে, একে অপরের বিরুদ্ধে অবিরাম বিষোদ্‌গার এবং ক্রমাগত ঘৃণা ছড়ানোর নির্দেশনা শুনতে শুনতে সাধারণ মানুষ এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। ট্যালারিকোর মতে, গত এক দশক ধরে মার্কিন রাজনীতি যেন প্রফেশনাল রেসলিং বা রক্তক্ষয়ী খেলায় পরিণত হয়েছে, যা পরিবার ও বন্ধুদের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি প্রায় ৪০ বছর পর টেক্সাসে ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে প্রথম মার্কিন সিনেট সিটে জয়লাভের পর নবনির্বাচিত সিনেটর জেমস ট্যালারিকো বলেন, ‘আমার মনে হয় এটা নিশ্চিত যে আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে লাগাতার বিষোদ্‌গার সহ্য করতে করতে ক্লান্ত। প্রায় ১০ বছর ধরে এই ধারার রাজনীতি চলছে। রক্তক্ষয়ী খেলাধুলার রাজনীতি, ট্রলিং এবং অপরকে অপমান করার রাজনীতি, কিংবা পেশাদার রেসলিংয়ের মতো রাজনীতি। আমি ট্যালারিকো বা তাঁর নীতিগুলোকে পছন্দ করি না। শ্রেণি–রাজনীতির হাতুড়িতে যেভাবে চুরমার হচ্ছে ট্রাম্পবাদ। ট্রাম্পের এই আক্রমণগুলোর মধ্যে পেশাদার কুস্তির মাঠের মতো পরিবেশ তৈরি হতো। এ যেন একেবারে নিম্নস্তরের এক সংঘাতের খেলা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনীতির প্রভাব প্রায় এক দশক ধরে মার্কিন ভোটারদের ওপর বিস্তার লাভ করেছে। সমালোচকদের মতে, তিনি যে ধরনের উসকানিমূলক ভাষা ও আক্রমণাত্মক শৈলী নিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন, তা প্রথাগত রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের পরিপন্থী ছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করে নানা অপমানজনক ডাকনাম দেওয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আক্রমণ শানানো তাঁর কৌশল ছিল, যা সমর্থকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই আক্রমণগুলো দারুণ সাড়া ফেলেছিল এবং এটি এমন এক মার্কিন সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তুলেছিল, যা তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি মোটেও শ্রদ্ধাশীল ছিল না; বরং তাঁরা অনেক বেশি অশালীন ভাষা এবং বিনোদনে বেশি আগ্রহী ছিলেন। ট্রাম্পের সমর্থকেরা দারুণভাবে তা উপভোগ করেছিলেন।

ট্রাম্পের এই রাজনৈতিক কৌশলগুলোকে অনেক সময় বিনোদনমূলক লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, যেখানে তিনি অভিজাত শ্রেণি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বারাক ওবামা অনেক আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, হতাশাগ্রস্ত মানুষ যখন বন্দুক, ধর্ম কিংবা অন্যদের প্রতি বিদ্বেষকে আঁকড়ে ধরেন, তখন রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বেড়ে যায়। ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলন সেই হতাশা থেকেই একসময় বিকশিত হয়েছিল। যেমন ‘ক্রুকেড হিলারি’, ‘লো-এনার্জি জেব’, ‘পোকাহন্টাস’, ‘লিটল মার্কো’, ‘ক্রেজি বার্নি’, ‘লাইং টেড’। ট্রাম্প যখন দাবি করলেন যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাঁর পুনর্নির্বাচন চুরি করেছে, তখন তিনি কিন্তু চুপচাপ বসে থেকে ফল মেনে নেননি। ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে যোগ দেওয়ার সাত বছর আগে সান ফ্রান্সিসকোতে এক ভাষণে বারাক ওবামা বলেছিলেন যে এ ধরনের মানুষেরা ‘হতাশ হয়ে পড়েন, তাই তাঁরা তাঁদের হতাশা দূর করতে বন্দুক, ধর্ম, অন্যদের প্রতি বিদ্বেষ, কিংবা অভিবাসী ও বাণিজ্যবিরোধী মনোভাব।

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের শাসনামলে আইনি লড়াই, কারাদণ্ডের হুমকি এবং হত্যাচেষ্টার মতো প্রতিকূলতা পেরিয়ে ২০২৪ সালে ট্রাম্পের পুনরুত্থান অনেককেই অবাক করেছিল। কিন্তু রাজনীতির হাওয়া বদলাতে সময় লাগেনি। ভোটাররা একসময় যে অসংলগ্ন রাজনীতির স্টাইল পছন্দ করতেন, বর্তমানে তারা তার পরিবর্তে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো বাস্তবমুখী প্রতিশ্রুতি পূরণের হিসাব চাইতে শুরু করেছেন। এটি পরিবারগুলোকে ভেঙে দিচ্ছে, বন্ধুত্ব ধ্বংস করছে এবং সব সময় আমাদের সবাইকে এক বিশ্রী অনুভূতিতে ডুবিয়ে রাখছে।’। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চার বছরের মেয়াদে ট্রাম্প আইনি আক্রমণ, কারাদণ্ডের হুমকি এবং হত্যাচেষ্টা থেকে বেঁচে গিয়ে ২০২৪ সালে আবার ক্ষমতায় বসার মতো এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হন।

ইরান ইস্যুসহ নানা বিষয়ে পররাষ্ট্রনীতির ব্যর্থতা ভোটারদের মনে ট্রাম্পের প্রতি মোহভঙ্গ ঘটিয়েছে। খোদ ভাইস প্রেসিডেন্টও স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। ট্রাম্পের প্রতি একসময়ের অনুগত ভোটার, ক্ষুব্ধ ডেমোক্র্যাট এবং নিরপেক্ষ ভোটাররা মিলে ২০২৪ সালের নির্বাচনে যে রায় দিয়েছেন, তা মূলত তাঁর জীবনযাত্রার ব্যয় ও ক্রয়ক্ষমতা বিষয়ক প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা এবং শৃঙ্খলহীন রাজনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে এক গণভোট ছিল।

নারীদের পাশাপাশি হিস্পানিক, এশিয়ান, আরব এবং আফ্রিকান–আমেরিকানসহ মধ্য-পশ্চিমের সুশিক্ষিত নাগরিকদের কাছে ট্রাম্পের ভাষা ও আচরণ অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছিল। একরাতের ভোটে তাঁর বিশাল মাগা জোটের এমন পরিণতি মূলত জনমানুষের পরিবর্তনের আকুলতাকে প্রতিফলিত করে। এই পরাজয় কেবল প্রার্থীর নয়, প্রতিনিধি পরিষদের রিচার্ড হাডসন বা কেন প্যাক্সটনের মতো প্রভাবশালী নেতাদের হারের মধ্য দিয়ে পুরো রিপাবলিকান পার্টির এক চরম বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য তিনি যে বিশাল মাগা জোট গড়ে তুলেছিলেন, তা একরাতের নির্বাচনেই ভেঙে খানখান হয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানরা যদি ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম এবং নিজেদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলোর আমূল পরিবর্তন না ঘটান, তবে ভবিষ্যতে জয় পাওয়া কঠিন হবে।

মাগা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এখন সংকটের মুখে।

প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্প-পূর্ব আমলের সেই সৌজন্যবোধ কি আর ফিরবে?

অ্যান্ড্রু জ্যাকসনের মতোই ট্রাম্প আমেরিকার রাজনীতিকে চিরতরে বদলে দিয়ে গেছেন। এখন কোনো তিক্ততা ছাড়াই মতবিরোধ প্রকাশের সেই সোনালি দিনে পুরোপুরি ফেরা হয়তো সম্ভব নয়, কিন্তু ভোটাররা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তারা বিভাজনমুখী রাজনীতির ইতি চান।

পরিশেষে, ২০২৪ সালের নির্বাচন ডেমোক্রেটিক নীতির প্রতি সমর্থনের চেয়ে ট্রাম্পবাদের বিষাক্ত আচরণের বিরুদ্ধে একটি বড় প্রতিক্রিয়া হিসেবেই বেশি প্রতীয়মান হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এই জনরায় বুঝতে পেরে নিজের রাজনৈতিক ধারায় পরিবর্তন আনবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। এই বিশ্লেষণে জেমস ট্যালারিকোর মন্তব্যের মতো অনেকে একমত যে, ঐক্যবদ্ধ করতে পারা নেতাদেরই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মার্কিন রাজনীতিতে।

এই বিভাগের আরো খবর