1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
দেশ যেন আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত না হয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান - আজকের কাগজ
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
গ্যাসের দাম ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ নির্বাচনী ফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ ভৈরব নদের ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে খুলনার ঐতিহ্যবাহী লোহাপট্টি সিলেট টেস্টে উইন্ডিজ ব্যাটারদের দাপট, চাপে বাংলাদেশ ডিএমপি: জনমনে আতঙ্ক ছড়াতেই বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তিনজনের বিচার শুরুর নির্দেশ আদালতের ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা বিচার বিভাগে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বড় সংকট: আইনমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মের বিদেশমুখী হওয়ার নেপথ্যে কী? ইন্ডিগো বিমানে হাইজ্যাকের হুমকি, লখনৌগামী ফ্লাইট বেঙ্গালুরুতে জরুরি অবতরণ

দেশ যেন আর তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত না হয়: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১:৪০ পিএম
শেয়ার করুন

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করার লক্ষ্যে নতুন করে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির ভাষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, কোনো অপশক্তি যেন ভবিষ্যতে এ দেশের মানুষের অধিকার হরণ করে রাষ্ট্রকে অন্য কোনো শক্তির তাঁবেদারে পরিণত করতে না পারে।

এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় জাতীয় জীবনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করেন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান—এই প্রতিটি ঘটনা প্রমাণ করে যে, এ দেশের মানুষ জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আপসহীন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সবকিছুর ঊর্ধ্বে দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭। পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্নভাবে সংগঠিত হয়ে দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়।’। তবে সেই গৌরবের পতাকা সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব।

ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান

১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যে গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনা হয়েছিল, তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি করে দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়।

কিন্তু সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের স্লোগান হওয়া উচিত—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

জাতীয় ঐক্য ও চেতনা

দেশপ্রেমিক জনগণের কাছে ৭ নভেম্বরের গৌরবগাঁথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যখনই জাতি এই চেতনার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই দেশের স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মূলমন্ত্রকে ধারণ করতে হবে। দল, মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিককে বাংলাদেশি পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘দল, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এ দেশের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি। আজকের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।’। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যদি ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি বার্তা

বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে দেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমৃদ্ধ আগামীর জন্য সরকারের সব পরিকল্পনা তরুণদের কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে। তাদের জন্য উপযুক্ত বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্য করে বলেন, কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, বরং সঠিক ইতিহাসের শিক্ষা নিয়ে আত্মপরিচয় ও আত্মমর্যাদার ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে।

  • প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন বিএনসিসির ৩ হাজার ক্যাডেট ও ৫০০ স্কাউট সদস্য।
  • প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ সরকারের উপদেষ্টাবৃন্দ এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা।
  • পিলখানায় সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে অতীতে যে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
  • ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ এবং জনগণকে এই আয়োজনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক ইতিহাসের পাঠ ও জাতীয়তাবাদী চেতনার চর্চাই বাংলাদেশকে আগামী দিনের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করবে। এই ঐক্যের মাধ্যমেই রাষ্ট্রকে তাঁবেদারমুক্ত রাখা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটস এবং সর্বোপরি দেশের জনগণকে এ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

এই বিভাগের আরো খবর