
নওগাঁর সাপাহারে পানি নিষ্কাশন, জমি বণ্টন ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে নাজমিন খাতুন নামে এক নারী ইউনিয়ন পরিষদ ও থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে মো. মোকছেদুল ইসলাম ও মো. মোকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, বাড়ির পাশে গরুর সেট নির্মাণ এবং সর্বশেষ পানি নিষ্কাশনের রাস্তা মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিরন্টি ইউনিয়নের কুচিন্দা চকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাজমিন খাতুন বাবার সম্পত্তিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তি যথাযথভাবে বণ্টন না হওয়ায় স্বজনদের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়।
নাজমিনের অভিযোগ, প্রতিপক্ষরা বাড়ির চারপাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করায় ঘরের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জানালার পাশে গরুর সেট নির্মাণ করায় দুর্গন্ধ ও চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে।
বিষয়টির সমাধান চেয়ে গত ১১ মে ২০২৬ নাজমিন খাতুন শিরন্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে সেখানে অভিযোগের সুরাহা না হওয়ায় গত ১৯ আগস্ট তিনি সাপাহার থানায় ফের লিখিত অভিযোগ দেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে নাজমিন খাতুন দাবি করেন, ১৯ আগস্ট দুপুরে মো. মোকলেছুর রহমান তার বাড়ির বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের রাস্তা মাটি দিয়ে ভরাট করে বন্ধ করে দেন। এতে বাধা দিলে তাকে ও তার স্বামীকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে হাতে কোদাল নিয়ে ধাওয়া করা হলে তিনি আত্মরক্ষার্থে সরে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন নাজমিন খাতুন।
এ বিষয়ে শিরন্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে বসে জায়গা-জমি মাপযোগের মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মোকলেছুর পক্ষ পরিষদকে না জানিয়ে পানি নিষ্কাশনের রাস্তা মাটি দিয়ে ভরাট করে বন্ধ করে দেয়। এতে সেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরে নাজমিন থানায় অভিযোগ করেছেন। আমরা চাই, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে একটি সুষ্ঠু সমাধান করা হোক, যাতে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে।”