
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ডাংঘাট বটতলী এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা ওষুধ ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম জেন্নাত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার, পলাতক মূল হোতাসহ সব আসামিকে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে কুড়িগ্রাম। এ দাবিতে মানববন্ধন করে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নিহতের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। এ সময় তারা হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভধর্মী স্লোগান দেন এবং অবিলম্বে বিচার কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন নিহতের বাবা আব্দুস সাত্তার, বড় ভাই ও মামলার বাদী জয়নাল আবেদীন, ছেলে শাকিবুল ইসলামসহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দিনদুপুরে প্রকাশ্যে একজন ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হলেও ঘটনার মূল হোতারা এখনো অধরা। পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেফতার করলেও মামলার প্রধান আসামিসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী অভিযুক্ত পালিয়ে থাকায় পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেফতার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, “আমরা কোনো সান্ত্বনা চাই না, কোনো আশ্বাসও চাই না। আমরা চাই খুনিদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। যেন ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এভাবে স্বজন হারাতে না হয়।”
জানা গেছে, গত ১৪ জুলাই দুপুরে রাস্তা ও জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে বটতলী বাজারে ওষুধ ব্যবসায়ী জাহেদুল ইসলাম জেন্নাতের সঙ্গে প্রতিবেশী লিয়াকত সরকার লিমনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নিলে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জেন্নাতকে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরদিন নিহতের বড় ভাই জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় ২৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ এ পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করলেও মূল আসামিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত এখনো পলাতক।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি—প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় যেন কোনো হত্যাকারী পার না পায়। অবিলম্বে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।