
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে জানাজা ও দাফনের মতো ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার কেড়ে নেওয়ার ঘটনা আর দেখতে চাই না বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জানাজা পড়ার অধিকার যে কোনো মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকার, যা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার অতীতে লঙ্ঘন করেছিল।
নাহিদ ইসলাম তার পোস্টে উল্লেখ করেন, অতীতে মুজিববাদী ফ্যাসিস্টরা শহীদ মিনারে পিয়াস করিম ও আল মাহমুদের মরদেহ আনতে দেয়নি এবং সাধারণ মানুষকে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেয়নি। এছাড়া বিরোধী দলের অনেক নেতার জানাজায় বাধা দেওয়া হয়েছিল। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর ঢাকায় রক্ষীবাহিনীর নেতা তোফায়েল এবং নিজ এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা একে এম রহমতুল্লাহর জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এমনকি সংসদীয় রীতি মেনে শোকও প্রকাশ করা হয়েছে। ফ্যাসিস্টদের মানবাধিকারের পক্ষেও আমরা কথা বলেছি, কারণ শত্রুর সাথেও আমাদের ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করা শিখতে হবে।
মানবাধিকার নিয়ে বর্তমান সময়ের আলোচনা প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, এটি ইতিবাচক হলেও গত ষোল বছর অনেকে এ বিষয়ে নীরব ছিলেন। মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সারাদেশে যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল, তখন ঢাকা শহরের বহু মানবাধিকার কর্মী নিশ্চুপ ছিল। মানবাধিকারের প্রশ্ন এলে সব হত্যারই বিচার হওয়া জরুরি। তিনি জানান, অতীতে মুজিববাদীদের লাশের ওপর নৃত্য-উল্লাস ও কবর ভাঙচুরের মতো ঘটনাও দেখা গেছে। এছাড়া জানাজায় বাধা দেওয়াকে একটি স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করা হয়েছিল এবং এখনো শহীদ ওসমান হাদীর কবর উৎখাতের মতো ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
তবে এত কিছুর পরেও ফ্যাসিস্টদের পথ অনুসরণ করা আমাদের নীতি নয় বলে মন্তব্য করেন নাহিদ। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিপরীতে আমাদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাই পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানাই। আমরা সকল নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে অবিচল থাকবো।