1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
অর্ধকোটি টাকা নিয়েও তিন বছর ধরে স্থবির কুবির ইআরপি প্রকল্প - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:২৬ অপরাহ্ন

অর্ধকোটি টাকা নিয়েও তিন বছর ধরে স্থবির কুবির ইআরপি প্রকল্প

‎শারাফাত হোসাইন, কুবি প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ৮:২০ পিএম
শেয়ার করুন

অর্ধকোটিরও বেশি টাকা অগ্রিম পরিশোধের পরও স্থবির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) প্রকল্প। প্রকল্পটি এক বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা থাকলেও তিন বছরেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম, গবেষণা, অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়া ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা সহ বিভিন্ন কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

‎খোঁজ জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ জুন প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। এই প্রকল্পের জন্য ৬৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বাজেটের কাজ দেওয়া হয় ড্যাফোডিল জাপান আইটি লিমিটেডকে। ইতোমধ্যে তাদেরকে ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়াও ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকায় সার্ভার কেনা হয়েছে ইকোনমিক সাপোর্ট থেকে।

‎এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাছানকে আহ্বায়ক ও আইসিটি সেলের সিনিয়র প্রোগ্রামার মো. নাসির উদ্দীনকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।

‎প্রকল্পটি এখনও শেষ না হওয়ায় অ্যানালগ পদ্ধতিতে সেমিস্টার ফি জমা দেওয়া, সার্টিফিকেট উত্তোলন, ফলাফল পাওয়া, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা প্রাপ্তিসহ নানা কাজে ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থীরা কম সময়ের মধ্যে যেকোনো জায়গা থেকেই সেমিস্টার ফি প্রদান করতে পারবে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন উত্তোলনসহ যাবতীয় সুবিধা ভোগ করতে পারবে।

‎আইন বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী দিলোয়ার হোসেন বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে এসেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এনালগ পদ্ধতিতে চলতেছে। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেমিস্টার ফি জমা দেওয়া, রেজাল্ট দেখা থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট উত্তোলন করা সব জায়গাতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে এটা অবশ্যই ভালো দিক। তবে, কেন এতদিন ধরে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে না জানি না। এখানে কার গাফিলতি আছে সেখা খুঁজে বের করে দ্রুত ইআরপি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা দরকার।’

‎এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদারকি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাছান বলেন, ‘এই কাজের বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। আমাকে যে কমিটিতে রাখা হয়েছিলো সেটা হচ্ছে তদারকি কমিটি। আমরা কাজটা ঠিকঠাক মতো হচ্ছে কিনা আমরা শুধু সেটা দেখব। কাজ শেষ করতে এত দেরি হচ্ছে কেনো; সে ব্যাপারে আমি জানি না।’

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রকল্পটির কাজ একটি স্বনামধন্য ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার কথা থাকলেও নাসির তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে ড্যাফোডিল নামের এক নিম্নমানের কোম্পানিকে কাজ পাইয়ে দেয়। কাজ শেষ না করেও তিনি তৎকালীন উপাচার্যের মাধ্যমে কোম্পানিকে ৫০ লাখ টাকার বেশি দিয়ে দেয়৷ এই কোম্পানি এখনো কাজটা ঠিকঠাক মতো করে দিতে পারছে না।”

‎এ অভিযোগের ব্যাপারে কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হননি তদারকি কমিটির সদস্য সচিব আইসিটি সেলের সিনিয়র প্রোগ্রামার মো. নাসির উদ্দীন।

‎এতো সময় পরেও কেন এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি জানতে চাইলে ড্যাফোডিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রোগ্রামার রিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা আরও এক বছর আগে কাজ শেষ করেছি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় সেটা গ্রহণ করছে না। তাদেরকে বারবার ই-মেইল করছি কিন্তু কোনো রেসপন্স পাচ্ছি না।’

‎এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, ‘তারা যেভাবে আমাদেরকে কাজটা বুঝিয়ে দিতে চাচ্ছে এতে নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে। আমি তো সিএসইর স্টুডেন্ট আমি এই বিষয়গুলো বুঝি। তারা নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজটাকে একটু সংযোজন করে আমাদেরকে দিতে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা জানিয়েছি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারলে কাজটা গ্রহণ করব না।’

‎নিরাপত্তার বিষয়ে রিয়াজ আহমেদ বলেন, “আমাদের কাজে যদি নিরাপত্তার ঘাটতি থাকে তাহলে কোথায় কি ঘাটতি রয়েছে সেটা আমাদেরকে দেখিয়ে দিতে হবে তো। আগে তো তাদের এটা নিতে হবে। ব্যবহার করার পরে যদি কোথাও সমস্যা দেখা দেয় তখন সেটা আমরা দেখব। কিন্তু তারা কাজটা গ্রহণই করতে চাচ্ছে না।”

‎উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে দুইবার বৈঠক করেছি, যাতে তারা দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করে। কিন্তু এখনো তারা কাজটি শেষ করতে পারেনি। আমরা শীঘ্রই তাদের সঙ্গে আবার আলোচনা করবো, যেন তারা দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করে।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘এই কোম্পানিটাকে আমার দুর্বল মনে হয়েছে। আমি এমন কিছু কথা বলেছি, যা তারা ধরতেই পারছে না। আগের প্রশাসন যে কি বুঝে তাদেরকে কাজটা দিয়েছে সেটা আমি বুঝি না৷ আর এতো বেশি টাকাও আগে দেওয়া উচিত হয় নি ৷ তাও আমরা তাদের সাথে আবার বসবো কাজটা যেন দ্রুত করে দেয়।’

এই বিভাগের আরো খবর