1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুকরণের দাবিতে মানববন্ধন - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
যৌক্তিক হারে গণপরিবহন ভাড়া না বাড়ালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালককে ছুরিকাঘাত ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধ পিতাকে পিটিয়ে ঘরে বন্দি ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর আজ, দাবি ট্রাম্পের মন্ত্রীদের প্রটোকল দিতে ডিসি-এসপিদের নতুন নির্দেশনা ‎পদোন্নতি সংকটে উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: পরশু থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা চৌদ্দগ্রামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন নওগাঁয় হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু জবির কেন্দ্রীয় মসজিদে তালা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুকরণের দাবিতে মানববন্ধন

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৯:১৫ পিএম
শেয়ার করুন

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুকরণের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিসিপি ও ছাত্র ইউনিয়ন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।

শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি সকল জাতিসত্তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং আদিবাসীদের স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুকরণের দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জিরো পয়েন্টে সকাল ১১ ঘটিকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ(পিসিপি), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের উদ্যোগে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

পিসিপি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিশন চাকমার সঞ্চালনায় ও সভাপতি অন্বেষ চাকমার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবীর, পিসিপি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রিবেক চাকমা, রঁদেভূ শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি জাল্লাং এনরিকো কুবি প্রমুখ। উক্ত মানববন্ধনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক প্রেনঙি ম্রো।

শেখ জুনায়েদ কবীর বলেন, পাকিস্তান আমল থেকেই এদেশের একদল গোষ্ঠী কোনদিনও বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে করেনি। তারা আজও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় রয়েছে। তারা একইসাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধেও বয়ান দেয় মাঝেমধ্যে। বাংলা ভাষা ও বাংলার সংস্কৃতি তথা দেশের জাতীয় ঐক্যের জন্য এ গোষ্ঠী হুমকিস্বরূপ। সেই বাঙালি জাতির পাশাপাশি এদেশে পঞ্চাশের অধিক আদিবাসী বসবাস করছে। যাদের নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতি রয়েছে। বাংলা ভাষার জন্য বাঙালি জাতি রক্ত দিয়েছে। তাই তাদের দ্বারা অন্য কোন ভাষা-সংস্কৃতির উপর আগ্রাসন মানানসই নয়। আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা অতি জরুরি। এছাড়া সংবিধানে আদিবাসীদের জাতীয় অস্তিত্বকে স্বীকার করে এই সরকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির উদাহরণ তৈরি করতে পারে। আদিবাসীদের স্ব স্ব ভাষা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

রিবেক চাকমা বলেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বাংলার মানুষ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করেছিল। এর ফলে পাকিস্তানি শাসকরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পাঁচ দশক পার হয়ে গেলেও এদেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু আদিবাসী জাতিসত্তাসমূহের ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অধিকারসমূহকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ যেমন একজন বাঙালীর ঠিক তেমনি একজন মারমা, চাকমা, ম্রো কিংবা একজন মাহাতোরও। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় না থাকায় ধীরে ধীরে হারাতে বসেছে বান্দরবানের রেংমিতচ্যে ভাষা। নিজ ভাষার মাধ্যমে একটি শিশু তার পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধগুলো শিখতে শিখতে বেড়ে ওঠে। এক্ষেত্রে তার নিজ ভাষায় শিক্ষালাভ করতে পারা অতীব জরুরি। এজন্য সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলকে এ বিষয়ে দৃষ্টিপাত দিতে হবে।

জাল্লাং এনরিকো কুবি বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্ব স্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তথা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য যথাযথ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেখা যায় না। সকল জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করতে না পারলে বাংলাদেশের জাতি বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হবে। নিরীহ বম জনগোষ্ঠীর বহু সদস্যকে বিনা বিচারে আটক রাখা হয়েছে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আমল থেকে যাদেরকে বিগত অর্ন্তবর্তীকালীন ও বর্তমান সরকারের আমলেও মুক্তি দেওয়া হয়নি। এছাড়াও মধুপুরে গারোদের ফসলি জমি বেদখল করে বনবিভাগ স্থাপনা বানানোর যে ষড়যন্ত্র এগুলো আদিবাসীদের অস্তিত্বকে অদূর ভবিষ্যতে হুমকিতে ফেলবে। এজন্য সরকার যদি আদিবাসীদের ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষায় উচ্চ পর্যায়ের নীতি গ্রহণপূর্বক আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয় তাহলে এই সংকটকে আটকানো যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে অন্বেষ চাকমা বলেন, ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে যুগে যুগে বহু মানুষ, বহু জাতি আন্দোলন সংগ্রাম করে এসেছেন। অনেকেই জীবন বিসর্জনও দিয়েছেন। একটি জাতির আত্মপরিচয়ের অন্যতম উপাদান তার নিজস্ব ভাষা। স্বাধীনতার ৫৬ বছরে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার কার্যকর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। বৈষম্যহীন বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বৈষম্যে একজন আদিবাসী শিশু তাঁর মাতৃভাষায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষালাভ করতে না পারা। জুলাই অভ্যুত্থানের পরেও এদেশে আদিবাসীদের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার কোন উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করা হয়নি। সংবিধানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীসমূহের স্ব স্ব পরিচয় পর্যন্ত স্থান লাভ করতে পারেনি। আমরা সমাবেশের মধ্য দিয়ে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা চালুকরণের জন্য দাবি জানাই।

সভাপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আয়োজিত মানববন্ধনটির সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য যে, মানববন্ধনের আগে শহীদ মিনার হতে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত এক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *