
রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে নগরীর ‘স্নিগ্ধা ফার্মেসি’র মালিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে রাজশাহীর রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার ভাষ্য, তিনি স্নিগ্ধা ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গেলে দোকানের কর্মচারীরা প্রেসক্রিপশন দেখে অনলাইনে প্রদর্শিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দাবি করেন। এ সময় ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) জানতে চাইলে কর্মচারীরা তা জানেন না বলে জানান। তাদের আচরণ সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় তিনি পাশের অন্য একটি দোকানে ওষুধ কিনতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ভুক্তভোগীর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এ সময় ফার্মেসির ভেতরে থাকা দোকানমালিক তার কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলেন। এরপর কর্মচারীরা ঐ শিক্ষার্থী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। গালির কারণ জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে দোকানের কর্মচারী হাসু তাকে ধাক্কা দেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসময় দোকান মালিক, অপর কর্মচারী শুভ এবং আশপাশের অন্যান্য ফার্মেসির লোকজন তাদের ঘিরে ধরে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করেন ঐ শিক্ষার্থী।
ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর কয়েকজন বন্ধু ও জুনিয়র শিক্ষার্থী ফার্মেসির সামনে উপস্থিত হন। এ বিষয়ে রুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২২–২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আল ইমরান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে ফার্মেসির মালিকপক্ষ তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ফার্মেসির কর্মচারী হাসুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিন্ন দাবি করেন। তিনি জানান, ঐ শিক্ষার্থী যে ওষুধটি নিতে এসেছিলেন, সেটি তার ভাষায় ‘ড্রাগের মধ্যে’ পড়ে এবং ক্যানসারের ব্যথায় ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ওষুধ দেওয়ার আগে প্রেসক্রিপশন চাওয়া হলে ঐ শিক্ষার্থী মানিব্যাগ থেকে একটি প্রেসক্রিপশন দেন। তবে ওষুধটি যে কাউকে দেওয়া যায় না জানিয়ে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তিনি দুপুরের খাবার খেতে বাইরে চলে গেলে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর ৩০–৪০ জন একসঙ্গে দোকানে এসে জড়ো হন। এ সময় হাসুকে দোকান থেকে ফোন করে ঘটনার কথা জানানো হয়। পরে দোকানের মালিককে ভেতরে নিয়ে আবার বাইরে বের করে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ঘটনার বিবাদী হাসু।
খবর পেয়ে রাজশাহীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ এবং কয়েকজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে কর্মচারী হাসু (৩০), দোকানমালিক ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে। এতে ঘটনার সময় ও স্থান উল্লেখ করার পাশাপাশি দুজনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অভিযোগ শোনেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি পর্যালোচনা করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পণ্য কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক আচরণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, ওষুধের সঠিক মূল্য জানা একজন ক্রেতার অধিকার। এ ধরনের প্রশ্নকে কেন্দ্র করে কোনো ক্রেতাকে হেনস্তা বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্যতা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।