1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
দীপের তথ্যে গোলকধাঁধা, খোঁজ চলছে তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণীর - আজকের কাগজ
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ন

দীপের তথ্যে গোলকধাঁধা, খোঁজ চলছে তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণীর

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৪ পিএম
শেয়ার করুন

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য। বন্ধু দীপের দেওয়া তথ্যের গোলকধাঁধার মধ্যেই সামনে এসেছে ওই রাতে তরুণীসহ বারে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ। যেখানে সঙ্গে ছিলেন দীপও।

পরে ওই তরুণীকে নিয়ে তারা কোথায় গেলেন, টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়ই বা কীভাবে, কারা কারা গেলেন, সেখানে কী ঘটেছিল- এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

জিজ্ঞাসাবাদে তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্যে একাধিক অসংগতি পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তুরাগ নদ-সংলগ্ন মাজার বস্তি মাঠে কেন গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে একেক সময় একেক তথ্য দেন দীপ। ওই মাঠে যাওয়ার কারণ ছাড়াও তাদের সঙ্গে কোনো নারী কিংবা অন্য কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য দেননি তিনি। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে বেরিয়ে আসে এক তরুণীর তথ্য। তবে এই তরুণী সম্পর্কে পুলিশ এখন পর্যন্ত কিছু জানে না। ওই তরুণীর সঙ্গে তাহসিফ কিংবা দীপের কী সম্পর্ক তা খুঁজে বের করতে কাজ করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে মাদক ও নারী সংশ্লিষ্টতার বিষয় সামনে রেখেও তদন্ত করছে পিবিআই। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বলছেন, দীপের দেওয়া কোনো তথ্যই যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা হচ্ছে না। পাশাপাশি তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট, হোয়াটসঅ্যাপের কললিস্ট ও বার্তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। খোঁজ চলছে ওই তরুণীর।

তরুণীসহ যা দেখা গেলো সিসিটিভি ক্যামেরায়

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান তাহসিফ, দীপ ও একজন তরুণী। তারা একটি মোটরসাইকেলে সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে করে পৌঁছান দীপ। পরে তিনজনকে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে দেখা যায় ক্যামেরায়।

রেস্টুরেন্টের আরেকটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও ওই তরুণী লিফটের সামনে অপেক্ষা করছেন। কিছুক্ষণ পর হেলমেট পরা অবস্থায় সেখানে পৌঁছান দীপ। এরপর তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে দেখা যায়। পরে মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যান তারা।

রেস্টুরেন্ট থেকে তারা তিনজন কোথায় গেলেন সেই তথ্য হন্যে হয়ে খুঁজছে তদন্তকারী দলসহ পুলিশের একাধিক ইউনিট।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফ ওই নারীকে কোথায় নামিয়ে দেন সেটি এখনো জানা যায়নি। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়। এর মধ্যে ওই তরুণী কোন পর্যন্ত ছিলেন তাদের সঙ্গে, কোথায় নেমে গেলেন এবং ওই এলাকায় তাদের অবস্থান ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সূত্র খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

এ বিষয়ে নৌ পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রেস্টুরেন্টে নারীসহ প্রবেশের ভিডিও দেখেছি। তবে ওই নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তার পরিচয় মিললে অনেক রহস্য উন্মোচন হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। রিমান্ডে এনে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’

দীপের তথ্যে গোলকধাঁধা

পিবিআই সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা দীপের কাছে জানতে চান, তারা তুরাগ নদ-সংশ্লিষ্ট মাজার বস্তি মাঠে কেন গিয়েছিলেন। এই প্রশ্নের উত্তরে দীপ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন। একপর্যায়ে দীপ তদন্তকারীদের বলেন, তিনি ওই মাঠে যাননি। তাহসিফ সাউরি তাকে বলেছিলেন তিনি ওই মাঠে যাবেন।

এরপর তদন্তকারীরা দীপকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, তিনি যদি ওই মাঠে না গিয়ে থাকেন তাহলে মোটরসাইকেলটি মাঠের কোন জায়গায় ছিল তা কীভাবে জানেন? এই প্রশ্নের জবাবে দীপ আবারও বক্তব্য পরিবর্তন করেন। তখন তিনি বলেন, তিনি মাঠে গিয়েছিলেন। তাহসিফ তাকে মোটরসাইকেলে করে ওই মাঠে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আগে থেকে ওই মাঠ চিনতেন না।

তবে মাঠে কেন গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো সঠিক কোনো উত্তর দিচ্ছেন না দীপ। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে নারী বা আরও কোনো লোকজন ছিল কি না, সে বিষয়েও তথ্য না দিয়ে একই কথা বারবার বলছেন দীপ। এতে তদন্তকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে দীপ খুবই ঠান্ডা মাথায় ও শান্ত স্বভাবে তদন্তকারীদের সব প্রশ্নের উত্তর নিজের মতো করে দিচ্ছেন বলে জানা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা এক কর্মকর্তা বলেন, টঙ্গী মাজার বস্তি-সংলগ্ন ওই মাঠে মাদক সেবন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই স্থানে এর আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছে। তাহসিফ ও দীপ মাদকসংক্রান্ত বিষয়ে সেখানে গিয়ে থাকতে পারেন, এমন কিছু ক্লু পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া ওই সময় তাদের সঙ্গে আরও লোকজন ছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। তবে মাদক সেবনের জন্য ঢাকা থেকে বের হয়ে তারা টঙ্গীর ওই মাঠে কেন যাবেন, তা নিয়ে দীপকে একাধিকবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি বিভিন্ন উত্তর দিচ্ছেন। এসব উত্তর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তথ্য লুকিয়েছেন দীপ

ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে নিজের অবস্থান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে এক ধরনের বক্তব্য দিলেও পরে পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন দীপ। মরদেহ উদ্ধারের দিনে দীপ গণমাধ্যমকে তথ্য দেন তিনি ও তাহসিফ উত্তরার রেস্টুরেন্টে ডিনার শেষে দুজন যার যার বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তার বক্তব্যে ঘটনার কিছু তথ্য আড়াল করার চেষ্টা থাকতে পারে।

পিবিআই বলছে, দীপ একেক সময় একেক রকম কথা বলেছেন। তার সবশেষ বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান জানান, দীপের সবশেষ বক্তব্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার দেখানো মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলটির নম্বরপ্লেট ছিল না। ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বরের মাধ্যমে বিআরটিএ থেকে এর প্রকৃত মালিকানা যাচাই করা হবে।

দীপ কেন একেক সময় একেক রকম কথা বলেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, তাহসিফ ও দীপ একসঙ্গে এখানে আসার পর তাহসিফকে ফেলে কেন দীপ একা চলে গেলেন, সেটি আমাদের কাছে এখনো ধোঁয়াশা। আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে বিষয়টি জানা যাবে।

পিবিআই কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বলেছেন, তারা দুজন উত্তরা থেকে মোটরসাইকেলে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় এসেছিলেন। পরে কোনো একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। তাহসিফকে খুঁজে না পেয়ে দীপ প্রায় এক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসায় ফিরে যান। রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে তিনি বাসায় পৌঁছান বলে জানা যায়।

রিমান্ডের আবেদনে যা বলা হয়

আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে তদন্তে সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ মামলার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।

আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে মন্তব্য করে আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মূল রহস্য উদঘাটনসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করাসহ পাঁচ কারণ দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আর্জি জানান তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি নিয়ে আদালত দীপের চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

সামনে আসছে নতুন প্রশ্ন

মাদকস্পট হিসেবে পরিচিত টঙ্গীর মাজার বস্তির ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে কেন দীপ সেখানে গেলেন? এছাড়া দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের পুলিশের ইউনিফর্ম পরা দুজন লোক ধাওয়া দেয়, এতে তাহসিফ পানিতে পড়ে যান এবং দীপ লুকিয়ে থেকে পরে বাসায় ফিরে আসেন। কিন্তু দীপ আসলে কতটা সত্যি বলেছেন সেসব যাচাই-বাছাই চলছে। তবে সাঁতার জানা থাকলেও তাহসিফ কেন সাঁতরে পাড়ে উঠতে পারলেন না, কেনই বা তাকে পানিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করতে হলো- সেসব কারণ খুঁজছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

দুদিন পর মামলা করলেন বাবা

ঘটনার পর থেকে মামলা করতে নিজের অনীহার কথা জানালেও তিন দিন পর শুক্রবার রাতে উত্তরখান থানায় ছেলেকে হত্যার অভিযোগ দেন তাহসিফ সাউরির বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করা হয়েছে।

‘দীপ যা বলেছেন-করেছেন সেগুলো প্রশ্নবিদ্ধ’

তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তিনি বলেন, দীপ যা বলেছেন এবং করেছেন সেগুলো আসলে প্রশ্নবিদ্ধ। এর সঙ্গে কে জড়িত বা কে কী করেছে, আমি বুঝতে পারছি না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) উত্তরায় নিজের বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

তাহসিফের বাবার অভিযোগ, তার ছেলের বন্ধু দীপের সঙ্গে বেশ কিছুদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। দীপ তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়াও করতেন। তাকে নিজের ছোট ছেলের মতোই দেখতেন তারা।

তিনি বলেন, পিবিআইয়ের তদন্তের সামান্য কিছু আমি দেখেছি। সেখানে পরবর্তীসময়ে সে স্বীকার করেছে, তারা একসঙ্গে টঙ্গীতে গিয়েছিল। কিন্তু দীপ আমাকে বলেছিল, সে আমার ছেলেকে এই কম্পাউন্ডের মধ্যে রেখে গেছে। বিষয়গুলো আসলে প্রশ্নবিদ্ধ। এর সঙ্গে কে জড়িত বা কে কী করেছে, আমি বুঝতে পারছি না।

তাহসিফের আইফোন যেভাবে সচল হলো

টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন জানান, মরদেহের সঙ্গে উদ্ধার করা হয় একটি মানিব্যাগ, হাতঘড়ি ও বন্ধ আইফোন। উদ্ধার হওয়া মরদেহটির নাম-পরিচয় তখনও অজানা। নৌ-পুলিশ পরিচয় শনাক্তে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিল। আর তখনই মুশকিল আসান ঘটায় তাহসিফের আইফোনটি। ওয়াটারপ্রুফ ফোনটি চার্জে লাগানোর পর সচল হয়। এরপর ফোনটিতে একটি কল আসে। অপর প্রান্তে যিনি ছিলেন, তিনি নিজেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের এক স্বজন বলে পরিচয় দেন।

তার সঙ্গে কথা বলেই উদ্ধারকারী পুলিশ সদস্যরা নিশ্চিত হন, নদ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির।

ময়নাতদন্তের নমুনা পরীক্ষায় মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান

শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের সময় অর্গান নমুনা হিসেবে তার পাকস্থলী ও কিডনি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভিসেরা ও রক্তও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার জন্যও নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফরেনসিক বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, মরদেহটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পানির নিচে ছিল। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত নির্ভুলভাবে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে না।

ওই কর্মকর্তা বলেন, তাহসিফ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। সাধারণত তার সাঁতার জানার কথা। সে ক্ষেত্রে তিনি এমন অবস্থায় পানিতে পড়েছিলেন কি না, যেখানে তার সাঁতার কাটার সক্ষমতা ছিল না, সেটিও বিবেচনায় আসছে। তবে এসব তথ্য সঠিক কি না, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রক্ত, পাকস্থলী ও কিডনির নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, মৃত্যুর কারণ জানতেই এসব নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তিনি মাদক সেবন করে থাকলে বা কোনো ধরনের নেশাজাতীয় বস্তু গ্রহণ করে থাকলে পরীক্ষার মাধ্যমে তা জানা যেতে পারে। শনিবার প্রতিবেদন আসার কথা রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর