
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে প্রেমিক যুগলের বিচ্ছেদ ঘিরে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আবেগঘন এক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের চাপে আলাদা করে নেওয়ার সময় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রেমিক-প্রেমিকা। সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদে। প্রেমিক কবির হোসেন (১৯) উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের পদ্মার চর এলাকার জাহিদুর ইসলামের ছেলে। প্রেমিকা জুঁই আক্তার (১৬) রৌমারী ইউনিয়নের বাওয়াইর এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একসঙ্গে নতুন জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে গত ২৭ এপ্রিল বাড়ি ছাড়েন তারা। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধান না পেয়ে তরুণীর মা আজিরন বেগম রৌমারী থানায় অপহরণ মামলা করেন।
পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠক বসে। বৈঠকে উভয় পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে তরুণীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে প্রেমিক যুগল একে অপরকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলাদা করে নেওয়ার সময় তারা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় পরিষদ চত্বরে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে যায়।
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “ছেলে-মেয়ে প্রেম করে পালিয়েছিল। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বৈঠক হয়। কিন্তু তারা কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে চাইছিল না।”
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাওসার আলী বলেন, “অপহরণ মামলার ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। অনেকেই বলছেন, ভালোবাসার সম্পর্ককে জোর করে ভেঙে দিলে হয়তো মানুষ আলাদা হয়, কিন্তু স্মৃতি আর আবেগ থেকে যায় আজীবন।