1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
প্রতি বছর প্রায় ১১ হাজার শিশুর জন্ম হয় থ্যালাসেমিয়া নিয়ে - আজকের কাগজ
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ন

প্রতি বছর প্রায় ১১ হাজার শিশুর জন্ম হয় থ্যালাসেমিয়া নিয়ে

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬ ৯:১৩ পিএম
শেয়ার করুন

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৮ থেকে ১১ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। বর্তমানে দেশে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ হাজার। শুধু তাই নয়, প্রতি ৯ জনের মধ্যে একজন থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পক্ষান্তরে বিশ্বের অনেক দেশেই থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি হলেও বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে বলে একমত হয়েছেন তাঁরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বামী–স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে কেবল নবজাতকের মধ্যে থাকার ঝুঁকি থাকে, তাই বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে অনেকাংশে এর প্রতিরোধ সম্ভব।

বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগে থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘আর নয় আড়ালে: শনাক্ত হোক অজানা রোগী, পাশে দাঁড়াই অবহেলিতদের।’

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, থ্যালাসেমিয়া নিয়ে সমাজে নানা ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, বাহক হলে বিয়েতে সমস্যা হবে। এ কারণে অনেকেই পরীক্ষা করাতে চান না। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, ছেলে বা মেয়ের একজন বাহক হলে সাধারণত ঝুঁকি থাকে না; সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন দুজনই বাহক হন। তাই বিয়ের আগে পরীক্ষা করানোকে গুরুত্ব দিতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে ধর্মীয় নেতাদেরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হলেও দেশের সব মেডিকেল কলেজে এখনো থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

এই রোগ নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজ করা কনটেন্ট নির্মাতাদেরও এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানোর আহ্বান জানাই।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মনজুর মোরশেদ বলেন, ‘দেশে থ্যালাসেমিয়া শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাব্যবস্থায় এখনো নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বেশির ভাগ চিকিৎসাসেবা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় দূর-দূরান্তের রোগীদের রাজধানীতে এসে চিকিৎসা নিতে হয়।’ এ রোগ ব্যবস্থাপনায় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

‘রক্তের সংকট’ থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরে তিনি জানান, উন্নত দেশগুলোতে অধিকাংশ রক্ত স্বেচ্ছায় দান করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে স্বেচ্ছায় রক্তদানের হার এখনো অনেক কম। ফলে রোগীদের স্বজন, বন্ধু বা পেশাদার রক্তদাতাদের ওপর নির্ভর করতে হয়।

সভায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ বিভাগীয় পর্যায়ে থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের দাবি জানান। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে ‘কোটাসুবিধা’ দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট উইংয়ের সাবেক সদস্য এস এম হুমায়ূন কবীর এবং চিফ মেডিকেল অফিসার সাজিয়া ইসলাম, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাসুমা রহমান।

এই বিভাগের আরো খবর