1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্য: বিতর্কের মুখে পুলিশের ব্যাখ্যা - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
কক্সবাজারে পর্যটক মৃত্যুর ঘটনায় ওসিকে আদালতে তলব ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্য: বিতর্কের মুখে পুলিশের ব্যাখ্যা রাশিয়া: ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হলেও ইউক্রেনে সামরিক অভিযান থামবে না নির্দেশ পেলেই ৯৬ ঘণ্টায় ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নারী নির্যাতনের মামলায় শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ, অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ১৮৭ জন জনপ্রতিনিধি গাজীপুরের কোনাবাড়িতে ঝুট গুদাম ও পানি ফ্যাক্টরিতে আগুন ক্রসফায়ার ঘিরে আইজিপির মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদর দপ্তর চৌদ্দগ্রামে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় নবজাতক বিক্রির অভিযোগ: চার ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে উদ্ধার,গ্রেপ্তার ৪ বিজিবির অভিযানে ২১৫ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, মূল্য ১ কোটি ৭ লাখ টাকা ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিরুদ্ধে সিডিএর অভিযান অব্যাহত

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্য: বিতর্কের মুখে পুলিশের ব্যাখ্যা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২৬ পিএম
শেয়ার করুন

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে সরকারের অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে পুলিশ প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করবে— এমন একটি মন্তব্য করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর চকবাজারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্যের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত বলপ্রয়োগের অনুমতি দেওয়ার আইনি ক্ষমতা সরকারের আদৌ আছে কি না এবং পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থেকে আইজিপির এ ধরনের বক্তব্যের আইনগত ভিত্তি কতটুকু। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অপরাধ দমনে নির্দেশনা দেওয়া সরকারের দায়িত্বের অংশ। বাংলাদেশে পুলিশের বলপ্রয়োগের বিষয়টি নিয়েও জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক নথিতে আলোচনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানটিতে পুলিশ প্রধান বলেছিলেন, ‘ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব।’ এ মন্তব্যের পরেই বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই আইজিপির এই অবস্থানকে অসাংবিধানিক ও আইনের শাসনের পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ সরাসরি তাকে স্বপদ থেকে অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মুহাম্মদ নুরুল হুদা এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, প্রচলিত কোনো আইনে বা পুলিশের রেগুলেশনে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দের অস্তিত্ব নেই। সাধারণত দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাকে ইঙ্গিত করে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এমন কোনো সাজানো পরিস্থিতির অনুমোদন দেয়, তবে তা সম্পূর্ণ বেআইনি হবে। কাউকে হেফাজতে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বলপ্রয়োগ অনিবার্য হলে তা সংযত ও পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে এই বক্তব্যকে সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি অবিলম্বে বক্তব্যটি প্রত্যাহার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে টিআইবি তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের আহ্বান জানায়। এছাড়া আইন ও সালিস কেন্দ্র এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) একই ইস্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এইচআরএসএস-এর বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথ সুগম করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকলেও আইনবহির্ভূত কাজের দায় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অব্যাহতি নিশ্চিত হয় না।

আইনি ও সাংবিধানিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষিত রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ছাড়া কোনো ব্যক্তির জীবন বা স্বাধীনতার অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদে অভিযুক্ত ব্যক্তির নিরপেক্ষ আদালতে দ্রুত ও প্রকাশ্য বিচারের অধিকার স্বীকৃত। ফলে কোনো নির্বাহী সিদ্ধান্ত সংবিধানে সুরক্ষিত এই মৌলিক অধিকারগুলোকে বাতিল করতে পারে না। তবে তা আইনসম্মত প্রক্রিয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার বিভাগের কর্তৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে করতে হবে। পুলিশের দায়িত্ব পেশাদার তদন্ত, অপরাধী শনাক্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ক্রসফায়ারের কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং এটি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের অঙ্গীকার অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। পুলিশের আইজিপির মতো সংবেদনশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলে তিনি মত দেন।

জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অন দ্য ইউজ অব ফোর্স অ্যান্ড ফায়ারআর্মস বাই ল এনফোর্সমেন্ট অফিশিয়ালস’ নীতিমালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বলপ্রয়োগের বিষয়ে কঠোর সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জীবন বাঁচানোর মতো অনিবার্য পরিস্থিতি ছাড়া প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া প্রতিটি ঘটনার পর তার যৌক্তিকতা যাচাইয়ের জন্য যথাযথ তদন্ত আবশ্যক। সেখানে বলা হয়েছে, জনজীবন ও সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা যাবে না। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনার পর তার যৌক্তিকতা যাচাইয়ে তদন্তের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, তীব্র সমালোচনার মুখে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসানের মাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। এতে পুলিশ সদর দপ্তর দাবি করেছে, আইজিপি মূলত আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তির বিষয়টি বোঝাতে চাননি। বরং মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে পুলিশের অঙ্গীকার ব্যক্ত করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।

এই বিভাগের আরো খবর