
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের তেতৈতলা গ্রামে ঝর্না আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যার পর তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ঝর্না আক্তার তেতৈতলা গ্রামের সুজন দেওয়ানের স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার চান্দেরকৃত্তি গ্রামে। তিনি মৃত আব্দুল সাত্তারের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে ঝর্নার বিয়ে হয়। বিয়ের পাঁচ থেকে ছয় মাস পর স্বামী-স্ত্রী পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে আলাদা হয়ে পাশের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
নিহতের স্বামীর স্বজনরা জানান, ঝর্না অধিকাংশ সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে একাই থাকতেন। মঙ্গলবার দুপুরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। পরে তার স্বামী দোকানে চলে যান এবং ঝর্না ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে অবস্থান করেন।
সন্ধ্যার পর দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না মেলায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে ঝর্নার বোনকে খবর দেওয়া হলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঝর্নাকে ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্বজনদের দাবি, তার মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল।
পরে তাকে দ্রুত হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতের বড় বোনের জামাই অভিযোগ করে বলেন, “শাশুড়ি ও মেজো জায়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক অশান্তি ছিল। এসব কারণে ঝর্না এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে আমাদের ধারণা।”
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার এসআই মাজহারুল ইসলাম বলেন, “লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”