1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
চট্টগ্রামের নির্বাচনী গণসংযোগে আলোচিত সেই শুটার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে চট্টগ্রামের নির্বাচনী গণসংযোগে আলোচিত সেই শুটার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঘন কুয়াশার পূর্বাভাসে রেড অ্যালার্ট জারি গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ: বিজিবি-পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা দক্ষিণ ইরানে দফায় দফায় বিস্ফোরণ: কেশম দ্বীপে হামলার দাবি লর্ডসে ফিক্সিংয়ের ১৫ বছর: পাকিস্তানি ক্রিকেটে ট্র্যাজেডির পতনগাথা ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন হামলার অভিযোগ অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মুরাসু আজকের খেলার সূচি: এনসিএল ও চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ফেভারিট বাংলাদেশ, শিরোপা জয়ের বড় সুযোগ

চট্টগ্রামের নির্বাচনী গণসংযোগে আলোচিত সেই শুটার এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৬ পিএম
শেয়ার করুন

গত বছরের ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় এক নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিজের এলাকায় এমন হামলার আশঙ্কা করেননি সরোয়ার। সরোয়ার হত্যা মামলায় গত ২৮ অক্টোবর আদালত তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তাঁর ভাষায়, ‘এক ঢিলে দুই পাখি’ মারার মতো ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে নেতা-কর্মীদের ভিড়ের মধ্যে এক যুবক পেছন থেকে সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা নামের এক ব্যক্তির ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে পরপর তিনটি গুলি করেন। নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড়ের মধ্যেই হঠাৎ গুলির শব্দ। এ কারণে সরোয়ার সতর্কভাবে চলাফেরা করতেন।

এতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়া সরোয়ার হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেন। এ সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত্যু হয় তাঁর। পরে গুরু-শিষ্যের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

ঘটনার এক বছর পার হয়ে গেলেও সেই বাঁহাতি শুটারকে এখনো শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সুষ্ঠু তদন্ত করে পুলিশ বের করুক।’।

নিহত সরোয়ার নগরের পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সরোয়ার একসময় বড় সাজ্জাদের অনুসারী ছিলেন।

তিনি বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় এরশাদ উল্লাহর সাথে প্রচারপত্র বিলি করছিলেন।

ওই হামলায় এরশাদ উল্লাহ নিজেও আহত হয়েছিলেন, যিনি বর্তমানে ওই আসনের সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক। এই দীর্ঘ সময়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। যদিও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে মূল শুটারের পরিচয় রয়ে গেছে রহস্যের আড়ালে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, হামলাকারী যুবকের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে এবং সে পেশাদার ও প্রশিক্ষিত। ঘটনাস্থল ও আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় শুটারের পরিচয় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরেই সরোয়ারকে পরিকল্পিতভাবে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে হত্যা করা হয়েছে। তবে এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভালোভাবে প্রশিক্ষিত কেউ এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর পর থেকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুজনের বিরোধ চলছিল। এ জন্য নির্বাচনী জনসংযোগের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানকে বেছে নেওয়া হয়। সন্ত্রাসীদের দলে প্রশিক্ষিত শুটার, দুশ্চিন্তায় পুলিশ।

ঘটনার তিন দিন আগে সরোয়ারকে ‘সময় শেষ’ উল্লেখ করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর বাবা আবদুল কাদের। বিদেশ পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ও তাঁর সহযোগীদের দিকে সন্দেহের তীর নিহতের পরিবারের। আবদুল কাদের জানান, সাজ্জাদ আলীর সঙ্গে সরোয়ারের একসময়ের ঘনিষ্ঠতা থাকলেও ২০১৬ সাল থেকে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। এর আগে গত বছরের ৩০ মার্চ সরোয়ারের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছিল, তবে তখন তিনি বেঁচে যান। নিহত সরোয়ারের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৫টি মামলা ছিল। ২০১৬ সালের দিকে সরোয়ার নিজস্ব বলয় গড়ে তোলেন। এর আগে গত বছরের ৩০ মার্চ নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় সরোয়ারের একটি ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ড নিয়ে হতাশ সরোয়ারের বাবা বলেন, নিজের চোখের সামনে জনাকীর্ণ স্থানে ছেলেকে গুলি করে হত্যার বিষয়টি তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। মামলাটি দায়ের করার পর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সাতজনের নামসহ আরও ১৫ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। গত ২৯ আগস্ট যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর সময় মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও প্রধান অভিযুক্ত সাজ্জাদ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ রায়হান ও বোরহান এখনো পুলিশের নাগালের বাইরে। গুলি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আবার গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন প্রকৃত আসামি জামিনে বেরিয়ে এসেছেন।

নিহতের ছোট ভাই আজিজ উদ্দিনের অভিযোগ, পুরো ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তিনি মনে করেন, তার ভাই বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হওয়ায় একটি পক্ষ তাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত অপরাধীরা এখনো বাইরে আছে এবং নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, মামলায় ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১০ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। শুটারকে শনাক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিরীহ কাউকে আটক করা হয়নি এবং রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়টি এখনো তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে। সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহও এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এই বিভাগের আরো খবর