1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা আর কাঁদা মাটির স্তুপ - আজকের কাগজ
বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জন, গেজেট বৃহস্পতিবার ঘরের দরজার সামনে কাফনের কাপড় ও চিরকুট: আতঙ্কে পরিবার কুমিল্লায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব: বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যু সিলেটের ওসমানী মেডিকেলে দালাল ও চোর চক্র খাদিজার দৌরাত্ম্য বেপরোয়া কুড়িগ্রামে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ জনের চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা আর কাঁদা মাটির স্তুপ প্রধানমন্ত্রীর একটি সিদ্ধান্তেই রক্ষা পেল ৩ হাজারেরও বেশি গাছ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন: ২বছরের জন্য বহিষ্কার পাঁচ রুয়েট শিক্ষার্থী অনলাইন জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাতে দাদিকে হত্যা: নাতিসহ গ্রেফতার ৩ দিনাজপুরের র‍্যাবের অভিযানে ৩২৭ কেজি বেলে পাথর জব্দ গ্রেপ্তার ২

চট্টগ্রাম নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা আর কাঁদা মাটির স্তুপ

রাজু চৌধুরী
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৪:৪৩ পিএম
শেয়ার করুন

টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার পর বৃষ্টি শুরু হয়।
এদিকে নগরীর হিজড়া খাল ও জামালখান খাল চলমান কাজের কারণে খাল দুইটিতে বন্ধ রাখা হয়েছে পানির প্রবাহ। তাই খালের পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে না পেরে আশেপাশে সড়কের ওপর দিয়ে উপচে পড়ে বিভিন্ন অলি গলিতে পানি জমেছে আর কাঁদা মাটির স্তুপ জমেছে। কোথাও কোথাও ভবনের নীচে পানি প্রবেশ করেছে আর কোথাও বাসার ভিতরেই পানি এক হাঁটু সমান আর এতেই ঘটছে বিপত্তি।

বৃষ্টি হলেই হিজড়া খাল ও জামালখান খাল সংলগ্ন এলাকাগুলো প্লাবিত হচ্ছে। দুর্ভোগ ভোগান্তিতে পড়ছে নগরবাসী। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দাবি, ইতোমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ৯৬ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই অগ্রগতি যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে এ দুটি খালের কারণে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর এই বৃষ্টিতে হিজড়া খাল সংলগ্ন প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, চকবাজার তেলীপট্টি রোড, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, শুলকবহরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোমর সমান পানি উঠে গেছে।
এ সড়কের পাশেই রয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ফলে রোগী, স্বজন এবং জরুরি সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
শুধু প্রবর্তক মোড় নয়, একই সময়ে মহানগরের হালিশহর, ইপিজেড, আগ্রাবাদ, রহমতগঞ্জ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, শুলকবহর, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, জঙ্গীশাহ’র মাজার, চকবাজার ও বায়েজিদ বোস্তামীসহ বিভিন্ন এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বেশ কিছু অলিগলির সড়কও পানির নিচে চলে যায়।

অন্যদিকে, জামালখান খাল সংলগ্ন হেমসেন লেইন, শরীফ কলোনি, রহমতগঞ্জ, জামালখান এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

সৃষ্ট এ জলাবদ্ধতায় শুধু সড়ক নয়; আবাসিক এলাকা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস পাড়া, দোকানপাটসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আড়াই ঘণ্টা বৃষ্টির এ জলাবদ্ধতা বলতে গেলে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে নগরবাসীর কাছে।

বিষয়টি নিয়ে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, হিজড়া খালের অবৈধ স্থাপনাগুলো ভাঙা, খাল পুনরুদ্ধার, নালা নির্মাণসহ অনেক কাজ চলছে। এসবে কাজ সম্পন্ন হতে সময় লাগবে। কাজ সম্পন্ন হলে প্রকল্পের সুফল ভোগ করবে নগরবাসী।

সড়কে কোমর সমান পানি পরিস্থিতি দেখতে দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি আগামী ১৫ মে’র মধ্যে খালের সংস্কার কাজ সম্পূর্ন শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আওতায় খাল সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিশেষ করে হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। যার ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। তবে কাজ শেষ হয়ে গেলে খালগুলো নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬টি খালের মধ্যে বর্তমানে ২৬টি খাল শতভাগ এবং ৭টি খালের ৯০-৯৭ শতাংশ কাজ শেষ। বাকি আছে মাত্র তিনটি খাল-হিজড়া খাল, জামালখান খাল ও রামপুর খাল। ২০২৫ সালের শেষ দিকে হিজড়া খালের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে হিজরা খালের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে, জামালখান খালের কাজ শেষ হয়েছে ৫৮ শতাংশ। রামপুর খালের ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

২০১৭ সালের ৯ অগাস্ট একনেকে জলাবদ্ধতা নিরসনের মেগা প্রকল্প অনুমোদন হয়। ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির পূর্ত কাজ করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। প্রকল্পটির মোট ব্যয় বাজেট ৮,৬২৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।

শুরুতে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৫,৬১৬ কোটি টাকা। প্রকল্প সমাপ্তের সময় ধরা হয়েছিল ২০২৩ সালের জুন। পরে ২০২৩ সালের নভেম্বরে সংশোধন শেষে প্রকল্প ব্যয় আরো ৩ হাজার ১০ কোটি টাকা বেড়ে হয় মোট ৮,৬২৬ কোটি টাকা। মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। এমন অবস্থায় প্রকল্পের সময় আছে আর মাত্র দুই মাস।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনা শাহ মাজারের সামনের সড়কে জমে থাকা পানিতে আটকা পড়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হয়ে সড়কের ওপরই পড়ে থাকতে দেখা গেছে। কোমরসমান, কোথাও কোথাও গলা সমান পানি পেরিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। পানির কারণে অনেকে বাধ্য হয়ে রোড ডিভাইডারের ওপর দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজ এখনো চলমান রয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *