1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
জিপিএ-৫,প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা - আজকের কাগজ
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন

জিপিএ-৫,প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের শিবিরের সংবর্ধনা

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৫৫ পিএম
শেয়ার করুন

চারপাশে নদী-নালা, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর নানা অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বপ্ন থামেনি হাতিয়ার শিক্ষার্থীদের। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও পরিবারের সহযোগিতায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ৯১ শিক্ষার্থী। তাদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতে সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাতিয়া উপজেলা শাখা।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে হাতিয়া দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা অডিটোরিয়ামে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আয়োজক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। পরে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা স্মারক। কৃতী শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন পরিণত হয় উৎসবমুখর পরিবেশে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক। প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্ল্যানিং সম্পাদক সুমন সরকার। প্রধান আলোচক ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য আবদুল্লাহ আল মাহবুব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাতিয়া উপজেলার আমির মাস্টার বোরহানুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির নোয়াখালী জেলা দক্ষিণের সভাপতি আরাফাত হোসাইন সিফাত এবং নোয়াখালী জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নোমান সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের হাতিয়া উপজেলা সভাপতি মো. আবদুল ওহাব বাবুল।

বক্তারা বলেন, দেশের মূল ভূখণ্ডের অনেক এলাকার তুলনায় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নানা চ্যালেঞ্জে ঘেরা। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অবকাঠামোগত সংকটের মধ্যেও যারা জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, তাদের এ সাফল্য বিশেষভাবে প্রশংসার দাবিদার। এ অর্জন শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, তাদের পরিবার, শিক্ষক ও পুরো হাতিয়ার জন্য গর্বের।

তারা আরও বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও এটিই সাফল্যের শেষ ধাপ নয়। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। আগামী দিনে তারাই হাতিয়া ও দেশের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।

সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বলেন, দ্বীপাঞ্চলে পড়াশোনার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক সময় যোগাযোগের সমস্যা, শিক্ষা উপকরণের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়। তবে এসব বাধা তাদের স্বপ্ন দেখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় তারা সামনে এগিয়ে যেতে চান। এমন আয়োজন ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেবে বলেও জানান তারা।

অভিভাবকেরা বলেন, সন্তানের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি শুধু আনন্দের নয়, এটি তাদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত হয়। দ্বীপের প্রত্যন্ত এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের এভাবে সামনে তুলে ধরলে তাদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।

আয়োজকরা জানান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে শিক্ষার প্রতি আরও মনোযোগী করে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে হাতিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো খবর