
ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি)-এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোক্তার আলী বলেছেন,জুলাই গণঅভ্যুত্থান সাম্য, ঐক্য ও নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক ঐক্য ও সমতার চেতনা। এখানে সবাই সমান ছিল এবং একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এই আত্মত্যাগ, সাহস ও ঐক্যের ফলেই নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথ উন্মোচিত হয়েছে।
তিনি বলেন, যখনই বাংলাদেশ সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই সেই পথকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে শিক্ষার্থীরাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলনে শিক্ষার্থীরাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ জানিয়েছে। অন্যায় যে ব্যক্তি, দল বা মতের পক্ষ থেকেই আসুক না কেন, শিক্ষার্থীরা তা কখনো মেনে নেয়নি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলন কখনো ব্যর্থ হয় না।
মাননীয় উপাচার্য বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা ধারণ করে এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না, সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত হবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানবাধিকার সমুন্নত থাকবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্রাঙ্গণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন, শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুবেল শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আতাউর রহমান খান। এছাড়া বক্তব্য দেন জুলাই শহীদ শেখ রাকিবের পরিবারের সদস্য কেয়া আক্তার, ইন্টারনেট অব থিংস অ্যান্ড রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক আশিকুচ্ছালেহীন, সহকারী নেটওয়ার্ক অ্যান্ড হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বিমলেশ সাহা, এডুকেশনাল টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানজীম আলম তাসীন এবং ইন্টারনেট অব থিংস অ্যান্ড রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তালহা যোবায়ের।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই শহীদ শেখ রাকিবের পরিবারের সদস্য কেয়া আক্তার, এডুকেশনাল টেকনোলজি অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তানজীম আলম তাসীন ও আবদুল্লাহ আল রাফি এবং ইন্টারনেট অব থিংস অ্যান্ড রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তালহা যোবায়েরকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
আলোচনা সভার আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।