1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
ধারের টাকা দিতে না পারায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ; গৃহবধূর মৃত্যু - আজকের কাগজ
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
যৌক্তিক হারে গণপরিবহন ভাড়া না বাড়ালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের উপপরিচালককে ছুরিকাঘাত ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রামে জমি নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধ পিতাকে পিটিয়ে ঘরে বন্দি ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর আজ, দাবি ট্রাম্পের মন্ত্রীদের প্রটোকল দিতে ডিসি-এসপিদের নতুন নির্দেশনা ‎পদোন্নতি সংকটে উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: পরশু থেকে পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউনের ঘোষণা চৌদ্দগ্রামে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াত-শিবিরের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন নওগাঁয় হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু জবির কেন্দ্রীয় মসজিদে তালা, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

ধারের টাকা দিতে না পারায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ; গৃহবধূর মৃত্যু

মোবাশ্বের নেছারী
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ মে, ২০২৪ ১১:৫৬ এএম
শেয়ার করুন

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলায় ধারের ২০ হাজার টাকা দিতে না পারায় এক গৃহবধূকে দুই মাস ধরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বিচার না পেয়ে লজ্জা ও ক্ষোভে ওই গৃহবধূ ও তার স্বামী বিষপান করেছেন। এতে গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ অবস্থায় স্বামী বিছানায় কাতরাচ্ছেন।

বুধবার (২৯ মে) দুপুরে নিজ বাড়িতে গৃহবধূর মৃত্যু হয়। এর আগে গত শুক্রবার (২৪ মে) ওই দম্পতি বিষপান করেন। পাঁচ দিন ধরে ‘বিষক্রিয়ার’ সঙ্গে লড়াই করে বুধবার দুপুরে গৃহবধূর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা সদর ইউনিয়নের কলেজপাড়া গ্রামে। ওই দম্পতির তিন বছরের এক শিশুসন্তান রয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন,—উপজেলার সদর ইউনিয়নের হলপাড়া গ্রামের আবুসামার ছেলে জয়নাল মিয়া এবং তার সহযোগী কারিগরপাড়ার শুক্কুর কসাই, ডাকাতপাড়ার আলম কসাই ও টাঙ্গাইলপাড়ার সোলেমান।মৃত্যুর আগে ২২ মে স্থানীয় কয়েকজনের কাছে দেওয়া গৃহবধূর জবানবন্দির একটি অডিও রেকর্ড রয়েছে। এতে পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। কীভাবে জয়নাল ও সহযোগীরা মাসের পর মাস তাকে ধর্ষণ করেছে।

বর্ণনায় গৃহবধূ বলেছেন, ‘আমার বাবা নেই। মা গৃহকর্মীর কাজে বিদেশে থাকেন। স্বামী টাঙ্গাইলে শ্রমিকের কাজ করেন। স্বামীর ধারের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় জয়নাল গত রমজান মাসের শুরু থেকে ধর্ষণ শুরু করে। পরে তার সহযোগী আলম কসাই, শুক্কুর কসাই ও সোলেমান দিনের পর দিন পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। দুই মাসের বেশি সময় ধরে তাদের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে বাধ্য হয়ে স্বামীকে বিস্তারিত ঘটনাটি জানাই। পরে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনও বিচার পাইনি।’
মৃত্যুর আগে গৃহবধূ আরও জানান, পাওনা টাকার জন্য প্রথমে জয়নাল তাকে নিয়মিত ধর্ষণ করতে থাকে। পরে তার সহযোগী আলম, শুক্কুর ও সোলেমানকে নিয়ে এসে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। মোবাইল ফোনে সে ভিডিও ধারণ করে, তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানাতে ভয় দেখায়। এরপর নানাভাবে হুমকি দিয়ে জয়নাল ও শুক্কুর বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করেছে। তাদের এই পাশবিক নির্যাতনে বাধ্য হয়ে বিষপান করেন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ বলেন, ‘এরপরও জয়নাল আবার ফোন দিয়ে আমার কাছে টাহার (টাকা) চাপ দেয়। আমি বলি কীসের টাহা। টাহার জন্য এতো কিছু। সংসারে অশান্তি। টাহা ফেরত দিলে আমার ইজ্জত ফেরত দিবা। দিনের পর দিন আমারে শেষ করছো। তখন জয়নাল হুমকি দিয়া কয়, টেহা কীভাবে তোলা লাগে দেখমু।’

ওই গৃবধূর স্বামী বলেন, ‘আমি টাঙ্গাইল থাইকা ফিইরা দেখি বউয়ের শরীর ভাইঙ্গা গেছে। আমি জিগাইলে হে খালি কান্দে। পরে সব জানতে পারি। বিচার চাইলে তারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালায়। জয়নাল আমারে মাইরা ফেলার হুমকি দেয়।’
কত টাকা ধার নিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঘর করার জন্য আমি ২০ হাজার আর স্ত্রী ২০ হাজার নিয়েছিল। পরে ২০ হাজার পরিশোধ করেছি। বাকি টাকার জন্য এত কিছু ঘটে গেলো।’

স্থানীয়রা জানান, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যসহ স্থানীয়দের কাছে বিচার দিলেও কোনও সমাধান মেলেনি। গত শুক্রবার গৃহবধূ ও তার স্বামী বিষপান করেন। গুরুতর অবস্থায় তাদের রাজিবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে জামালপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু টাকা না থাকায় এই দম্পতি বাড়িতে চলে আসেন। বুধবার বাড়িতেই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। পরে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই দম্পতি বিষপানের পর স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ ভুক্তভোগীদের ২০ হাজার টাকা দেওয়ার বিনিময়ে ঘটনা মীমাংসার করার সিদ্ধান্ত দেয়। জয়নাল ভুক্তভোগীদের চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা দিলেও তা নিতে অস্বীকৃতি জানান ওই দম্পতি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জয়নাল মিয়ার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি গোপন ছিল। আমরা জানতাম না। গৃহবধূর স্বামী একেকবার একেক কথা কয়। বিষ খাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য জয়নাল ২০ হাজার টাহা দিছে। হের স্বামী নেয় নাই।’

ধর্ষণের ঘটনা পুলিশকে নিয়ে কীভাবে টাকা দিয়ে মীমাংসার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে এই ওয়ার্ড মেম্বার বলেন, ‘অভিযুক্তরাই মীমাংসার কথা বলেছিল। এখন জয়নাল ও শুক্কুর কই আছে আমার জানা নাই।’

কয়েক মাস ধরে চলতে থাকা নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু হলেও এটিকে অপমৃত্যু বলছেন রাজিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের কোনও অভিযোগ পাইনি। স্বামী-স্ত্রী বিষপান করেছিল। স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর অবস্থা ভালো। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’…

এই বিভাগের আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *