1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
নির্ধারিত দামেও মিলছে না এলপিজি গ্যাস, গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ - আজকের কাগজ
রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
নেশার নৃশংসতায় রক্তাক্ত কুড়িগ্রাম, স্বজনের হাতেই ঝরছে প্রাণ! অফিসে নয়, রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন ঘটবে ব্যালটে: প্রধানমন্ত্রী প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউপিতে ভোট, ইভিএম আর নয়: ইসি সচিব নতুন বছরে বই-ড্রেস-জুতা-ব্যাগ পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পল্লবী থানার ভেতরে ককটেল বিস্ফোরণ নড়াইলের কাজলা নদীতে নারীদের অভূতপূর্ব নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ঢাবির পাঁচটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, পালানোর সময় আটক ২ রমজান সামনে রেখে পণ্য আমদানির এলসি খোলার শর্ত শিথিল টেকনাফে অসময়ে বাজারে লাল-হলুদ তরমুজ, মাচায় চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন চার বন্ধু রাতেও ছিলেন ঘরে, সকালে মিলল বাগানে নিথর দেহ

নির্ধারিত দামেও মিলছে না এলপিজি গ্যাস, গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ৮:৩৯ এএম
শেয়ার করুন

রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও ভোক্তারা তা মানতে পারছেন না। গত ২ নভেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছিল। অথচ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে এই সিলিন্ডার কিনতে ক্রেতাদের অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৪৪০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। সরেজমিনে ঢাকার ১৫টি এলপিজি বিক্রয়কেন্দ্রে দেখা গেছে, সিলিন্ডারভেদে দাম ২ হাজার ৩৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) ও বিইআরসি সূত্র বলছে, গত আগস্টে এলপিজি আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এবং অক্টোবরে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার টনের কম।

বিইআরসি নতুন দাম নির্ধারণের সময় আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়িয়েছিল। কমিশনের তথ্যমতে, ১২ কেজি সিলিন্ডার প্রতি আমদানিকারকদের মজুত ও বোতলজাতকরণ বাবদ প্রায় ৮২ টাকা, পরিবেশকদের কমিশন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ থেকে ৭০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই কমিশন দিয়ে তাদের পরিবহন খরচ ও অন্যান্য ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরায় অধিকাংশ দোকানি পরিচিত ক্রেতা ছাড়া অন্যদের কাছে গ্যাস বিক্রি করতে চাচ্ছেন না। অনেক বিক্রেতা গ্যাস নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন, আবার পরিচয় ও বাসার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর বাড়তি দামে সিলিন্ডার সরবরাহের কথা বলছেন। মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকার এক ব্যবসায়ী পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর ২ হাজার ৫০০ টাকায় গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দেন। উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টরের এক বিক্রেতা দাবি করেন, তিনি নিজেই ২ হাজার ২৫০ টাকায় গ্যাস কিনেছেন, ফলে ২ হাজার ৪০০ টাকার নিচে বিক্রি করা তার পক্ষে কঠিন। মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় মো. সায়েম নামের এক দোকানির কাছ থেকে গ্যাস কিনতে চাইলে তিনি শুরুতে বলেন, গ্যাস নেই। পরে এই প্রতিবেদক বিক্রেতার ফোন নম্বর নিয়ে দুই ঘণ্টা পর কল দিয়ে গ্যাসের খোঁজ করলে তিনি প্রথমে পরিচয় জানতে চান।

ঢাকার বাইরের চিত্রও প্রায় অভিন্ন। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দাম ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, রাজশাহীর বাগমারায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং পটুয়াখালীর বাউফলে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের সখীপুর ও সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার বিভিন্ন হাটবাজারেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অন্তত ৪০ থেকে ২৪০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। সখীপুরের ডিলার জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর তালুকদার জানান, চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় বাজারে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। ৪৫ কেজির সিলিন্ডারেও বাড়তি নেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। যদিও এরপর ৪ নভেম্বরের মধ্যেই আরও ৪০ হাজার ২০০ টন এলপিজি দেশে এসেছে। কোনো কোনো কোম্পানি বাড়তি দাম নিচ্ছে। সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু তাহের কোরেশী বলেন, বিইআরসি নির্ধারিত কমিশনে ঢাকার বাইরে দেওয়া গেলেও ঢাকার মধ্যে কোনোভাবেই সরবরাহ করা সম্ভব নয়। ঢাকার বাইরে গতকাল পাঁচটি উপজেলার বাজার ঘুরে দামের তথ্য নিয়েছেন প্রতিনিধিরা।

আমদানিকারকদের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তারা এলপিজি সরবরাহ বাড়িয়েছে এবং যারা বেশি দামে বিক্রি করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আবার মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি কোম্পানির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আবু সাঈদ রাজার দাবি, তাদের প্ল্যান্টগুলো থেকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তাদের মতে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার কথা, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো উচিত। আফ্রিকার দেশগুলো থেকে নামমাত্র পাওয়া যাচ্ছে। কোম্পানির প্ল্যান্টে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে ট্রাকের।

বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপর দায় চাপিয়ে আমদানিকারকদের কেউ কেউ বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ প্রায় বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলপিজি আমদানি করতে হচ্ছে, যাতে জাহাজ ভাড়াসহ খরচ বাড়ছে। লোয়াবের সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরী মনে করেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দামের চেয়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা বেশি জরুরি। তিনি বলেন, যত্রতত্র দোকানের মাধ্যমে এলপিজি বিক্রির ফলে অনিয়ম বাড়ছে, যা ঠেকাতে নজরদারি অপরিহার্য। আবার মজুত করার পর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ থেমে গেলে বড় রকমের লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে।

এদিকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে কমিশন কাজ করছে। বর্তমানে শিল্প খাতে এলপিজির ব্যবহার বেড়ে যাওয়া ও আমদানি না করে তৃতীয় পক্ষ থেকে কেনাবেচার বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। কমিশনের দুজন সদস্য মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও বিষয়টি অবগত আছে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে গোপনে বাড়তি দামে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। তবে ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের অভিযোগ, তাড়াহুড়া করে বিইআরসি নতুন দাম নির্ধারণের মাধ্যমে মূলত ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়েছে। এলপিজির দাম বাড়লে ভোক্তা কমবে, যা অপারেটররা চান না। গত বৃহস্পতিবারও অভিযান চালানো হয়েছে, আগামীকালও এটা চলবে।’। তাঁরা ভয় পাচ্ছেন, যদি সাংবাদিক বা ভোক্তা অধিকারের কেউ চলে আসেন।

সাড়িন পাঁচ বছরে ১২ কেজি এলপিজির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১৫ সালে দাম ছিল ৯৭৫ টাকা, যা এখন বেড়ে ২ হাজার ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে দেশে এক কোটির বেশি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করেন, যার ৮০ শতাংশই গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রায় ৯৯ শতাংশ বাজার বেসরকারি খাতের দখলে থাকায় সরবরাহের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই সীমিত। ৯৭৫ থেকে ২,০৬০ টাকা: সাড়ে ৫ বছরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দ্বিগুণের বেশি। বাসায় গ্যাস–সংযোগ বন্ধ থাকায় ২০১৫ সাল থেকে দেশে এলপিজির চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে। বছরে এলপিজির চাহিদা এখন ১৮ লাখ টনের বেশি। সিলিন্ডারের দাম ২৫০০ টাকা, ‘কুলাইতে না পেরে’ তামান্নারা এখন রান্না করেন লাকড়ি দিয়ে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এলপিজির দাম অনেক বেশি। গত ৭ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভারতের কলকাতায় এলপিজির দাম বাংলাদেশের চেয়ে দ্বিগুণেরও কম, যেখানে তারা সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভর্তুকি সুবিধা পায়। নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানেও দাম বাংলাদেশের তুলনায় কম।

সবশেষে বলা যায়, সরবরাহ চেইনের বিভিন্ন ধাপে বাড়তি খরচের অজুহাতে নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ও সরবরাহের দাবি এবং স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগের মাঝে পিষ্ট হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।

এই বিভাগের আরো খবর