
সরকারি বাংলা কলেজে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ “অটো রেল ক্রসিং” শিরোনামের একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে কলেজ পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। বিভাগের চার মেধাবী শিক্ষার্থী — জিতু, রজিন, ফারহান ও সাহিন — সম্মিলিতভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কলেজের গর্ব হয়ে উঠেছে।
প্রকল্পটি একটি স্বয়ংক্রিয় রেলগেট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা রেল দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত প্রযুক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিচারকমণ্ডলী প্রকল্পটির উদ্ভাবনী ভাবনা, কার্যকারিতা ও বাস্তব জীবনে প্রাসঙ্গিকতাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন।
এই অর্জনের পেছনে ছিল পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সার্বিক সহায়তা এবং নিবেদিত শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতা। শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান করেন বিভাগের সম্মানিত শিক্ষক প্রফেসর তাহারিন হক ম্যাম।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে কলেজ প্রশাসন প্রতিটি বিভাগ বা প্রজেক্টের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমান টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল, সেখানে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা তাদের নিজস্ব ফান্ড থেকে আরও অতিরিক্ত টাকা প্রদান করেন যা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম ভুমিকা রাখে।
প্রফেসর তাহারিন হক বলেন, “এই সাফল্য আমাদের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দায়িত্বশীলতারই প্রতিফলন। আমি তাদের পাশে থাকতে পেরে গর্বিত।”
প্রফেসর আওলাদ হোসেন বলেন, “ছাত্রদের এই উদ্ভাবনী চিন্তা আগামী দিনে দেশ গঠনে অবদান রাখবে। তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন সবসময় থাকবে।”
সরকারি অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, “এই প্রজেক্টটি শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়, বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে তাদের চিন্তার একটি প্রয়োগ। এটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
প্রফেসর আরেফিন হোসেন বলেন, “ছাত্রদের এমন উদ্ভাবন ক্ষমতা প্রমাণ করে তারা ভবিষ্যতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।”
বিভাগীয় প্রধান তাসলিমা ফেরদৌস বলেন, “পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ সবসময় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ও গবেষণামূলক কাজকে উৎসাহিত করে এসেছে। এ সাফল্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টারই ফল।”
কলেজের অধ্যক্ষও শিক্ষকদের এ ধরনের আন্তরিকতা ও সহযোগিতাকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেছেন। এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে সবার বিশ্বাস।