1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
বাইন্যান্সে বড় সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়: উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের নতুন কৌশল - আজকের কাগজ
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আশুলিয়ায় অন্তত ৩০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা মিরপুরে দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পরে মার্কেট-কারখানা ভাঙচুর ডিজে পার্টি-কাণ্ডে সেই অতিরিক্ত ডিআইজি বরখাস্ত ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফুটপাত পথচারীদের, অবৈধ দখলদারদের নয়: প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন কুমিল্লা বোর্ডে ভয়াবহ ফল বিপর্যয়:১৫ কলেজে একজনও পাস করেনি, শতভাগ পাস মাত্র ৪টিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী মো. সাব্বির হোসেন সানি গ্রেপ্তার সৌদি আরবে আগুনে নিহত নওগাঁর আরো ৫ রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ জন্মভুমিতে দাফন কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ আহত প্রতিবন্ধী কিশোরের পাশে স্বপন কুজুর, সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস

বাইন্যান্সে বড় সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়: উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের নতুন কৌশল

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:০৯ পিএম
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট এবং প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে উত্তর কোরিয়া আয়ের নতুন ও বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে।

ডিজিটাল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিং এবং বিদেশে ভুয়া পরিচয়ে কর্মী পাঠিয়ে অর্থ উপার্জনের যে ধারা দেশটি শুরু করেছে, তা বর্তমানে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যেও আছে নানা বাধা।

সম্প্রতি চীনভিত্তিক বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি সম্পদ চুরির ঘটনায় আবারও দেশটির হ্যাকারদের কর্মকাণ্ড সামনে চলে এসেছে। রয়টার্স ও চেইনঅ্যানালাইসিসের তথ্যানুযায়ী, চুরি হওয়া এসব অর্থের একটি বড় অংশ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয় হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা অন্তত ২০০ কোটি ২০ লাখ ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নিয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের মোট চুরির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬৭৫ কোটি ডলারে। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিট থেকেও প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ইথেরিয়াম চুরির ঘটনার পেছনে তাদের দায়ী করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, হ্যাকাররা এখন আর ছোটখাটো চুরিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তারা বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বড় আকারের হানা দিচ্ছে।

চুরি করা ডিজিটাল সম্পদকে প্রচলিত মুদ্রায় রূপান্তর করাই হ্যাকারদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সমন্বয়ে গঠিত নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দল (এমএসএমটি) জানিয়েছে, চীন, রাশিয়া, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় উত্তর কোরিয়া এসব অর্থ পাচার করে। এ ক্ষেত্রে তারা বিশেষ করে চীনের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভরশীল। এমএসএমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুরি করা অর্থ পাচার ও কর্মীদের আয়ের হিসাব রাখতে অন্তত ১৫টি চীনা ব্যাংককে ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের হামলায় কর্মীদের পরিচয় ও প্রবেশাধিকার ব্যবহার করে বড় অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

সিএসআইএস-এর ২০২৬ সালের মার্চের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রথমে একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়। এরপর ক্রিপ্টো মিক্সার ও বিভিন্ন ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অর্থের উৎস গোপন করা হয়। অবশেষে তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তা ডলার বা অন্যান্য প্রচলিত মুদ্রায় রূপান্তরিত হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সাইবার ইউনিটের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়, যার অন্যতম আলোচিত গোষ্ঠী হলো ‘লাজারাস গ্রুপ’।” যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কৌশলগত গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) ২০২৬ সালের মার্চের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রথমে চুরি করা ক্রিপ্টোকারেন্সি একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়। কখনো ক্ষতিকর সফটওয়্যার, আবার কখনো পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রবেশ করা হয়।

সাইবার হামলার বাইরেও বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদেশে কর্মরত উত্তর কোরিয়ার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণকারী এমএসএমটি তাদের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে প্রায় দুই হাজার উত্তর কোরীয় আইটি কর্মীর তথ্য শনাক্ত করেছে। এই কর্মীরা ভুয়া পরিচয় ও নথি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ধারণা, ২০২৪ সালে এসব কর্মীর প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড থেকে দেশটি প্রায় ৮০ কোটি ডলার আয় করেছে।

এসব কর্মীর আয় ও অর্থ স্থানান্তরে সহায়তা করার অভিযোগে ২০২৬ সালের ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ছয় ব্যক্তি ও দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মূলত সাইবার অপরাধ, অবৈধ অর্থ পাচার এবং ভুয়া আইটি কর্মী পাঠানোর এই পুরো নেটওয়ার্কটি দেশটির সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যেই সাজানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে। যদিও সরাসরি সামরিক খাতে এসব অর্থ ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাব রয়েছে, তবুও কঠোর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহের এই প্রচেষ্টা উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির জন্য এক বড় লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। এ ধরনের হামলায় কখনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এই বিভাগের আরো খবর