
প্রয়োজনে জীবন দিতে প্রস্তুত থাকলেও জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের অর্পিত রায় এবং গণভোটের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করলেই সরকার নিজে সম্মানিত হতে পারবে।
শনিবার যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন। গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্নকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নাগালের মধ্যে আনা, জ্বালানি ও সারসংকট দূর করা এবং সব ধরনের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এই সাত দফা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। শনিবার সাত দফা দাবি আদায় উপলক্ষে ১১ দলীয় জোটের আয়োজিত লংমার্চের পথসভায় যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফ্যাসিবাদের অনুসৃত পথ পরিহার করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ১১ দলীয় জোটের উপস্থাপিত দাবিগুলো অত্যন্ত সুস্পষ্ট। দেশবাসীর মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই জোটের নেতাকর্মীরা রাজপথে নেমেছেন এবং এই দাবিগুলো আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। সরকারকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১১ দলের দাবিগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট।
সংক্ষিপ্ত এ পথসভাটি শেষ হওয়ার পরপরই জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে লংমার্চের গাড়ি বহর যশোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
অনুষ্ঠিত পথসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া স্থানীয় নেতাদের মধ্যে অভয়নগর উপজেলা জামায়াতের আমির সরদার শরীফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মহিউল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।