
বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জেলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। প্রধান অতিথি ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ উল্যাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপুসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শিক্ষকরা জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান কারিগর। একটি দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
বক্তারা জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা প্রদানের উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত ১৫ আগস্ট ইএফটি ও আইবাস++ এর মাধ্যমে সারাদেশে তাঁদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় মুন্সীগঞ্জ জেলায় ১৬২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অনুকূলে মোট ২ কোটি ৫৮ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬০ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
সভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আস্থার সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিজ সন্তানের মতো ভালোবাসা ও যত্নের মাধ্যমে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড উন্নীতকরণ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পূর্ণ বেসিক বেতন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রদানের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব শুধু পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একটি সুন্দর প্রজন্ম গড়ে তোলার দায়িত্বও তাঁদের। শিক্ষকরা নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করলে দক্ষ ও সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যা দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।