1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
‘বুক পেতেছি, গুলি কর’—আবু সাঈদের রক্তেই জ্বলে ওঠে জুলাই - আজকের কাগজ
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআর পরিচালককে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপড়ে পড়া গাছ অপসারণ, যান চলাচল স্বাভাবিক বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে জেটরোর প্রেসিডেন্টকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আহ্বান গ্রাহকদের: বাজারে আসার পরপরই আইফোন ডুও ফোনের পর্দায় ফাটল পাক-আফগান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা, গোলাগুলিতে নিহত এক অন্ধ্র উপকূলে আঘাত হানল অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় অর্ণব জাপান ব্যাংকের গভর্নরের সাথে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম বন্ধুসভার প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ফাহিম একাদশের জয়

‘বুক পেতেছি, গুলি কর’—আবু সাঈদের রক্তেই জ্বলে ওঠে জুলাই

মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ ১০:০২ পিএম
শেয়ার করুন

‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’—দুই হাত প্রসারিত করে বুক চিতিয়ে গুলির সামনে দাঁড়ানো জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ বীর যোদ্ধা আবু সাঈদের আত্মত্যাগের স্মৃতিতে আবেগে ভাসল কুড়িগ্রাম। তাঁর বুকের তাজা রক্তেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন গতি পেয়েছিল, আর সেই আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরঅম্লান হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্দোলনের আহত সম্মুখযোদ্ধারা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কুড়িগ্রাম টাউন হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম জেলা শাখা আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা পরিণত হয় স্মৃতি, শোক, প্রতিবাদ ও প্রত্যয়ের এক আবেগঘন মিলনমেলায়। শহীদ পরিবারের আহাজারি আর আহত যোদ্ধাদের বেদনাবিধুর স্মৃতিচারণে ভারী হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপনের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “জুলাই যুদ্ধের কারণেই আজ মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। রাষ্ট্র সংস্কারের যে স্বপ্ন নিয়ে মানুষ জীবন দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এগোতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “শুধু নির্বাচন নয়, রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনই ছিল জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা।”
বিশেষ অতিথি কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার অভিযোগ করেন, বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ বণ্টনে বৈষম্য করা হচ্ছে, যা জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের বক্তব্যে। গাজীপুরে ২০ জুলাই গুলিতে নিহত শহীদ নূর আলমের স্ত্রী মোছা. খাদিজা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সন্তান যখন ‘বাবা’ বলে ডাকে, তখন আমার কাছে কোনো উত্তর থাকে না।” তিনি ঘটনার বিচার দাবি করেন।
আহত যোদ্ধা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, শরীরে গুলির ক্ষত নিয়ে আজও অসহনীয় যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজের সন্তানকে কোলে নেওয়াও তাঁর জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে, অনেক রাতই ব্যথায় নির্ঘুম কাটে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা মো. নিজাম উদ্দিন, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি শবেবর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নূর উদ্দিন কাসেমী এবং আহত যোদ্ধা মো. ইমরান হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, “শহীদদের রক্তের সঙ্গে যারা বেইমানি করবে, ইতিহাস তাদের কখনো ক্ষমা করবে না।”
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম রোমান।
জুলাইয়ের শহীদদের স্মৃতি, আহত যোদ্ধাদের রক্তাক্ত অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের নানা দাবির মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রামের এই আয়োজন শেষ হলেও একটি বার্তাই উচ্চারিত হয় বারবার—আবু সাঈদের বুকের রক্তে লেখা ইতিহাস কখনো মুছে যাবে না।

এই বিভাগের আরো খবর