1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
  4. : temp-login-BxH6QyEPU5XH7Ed :
শি জিনপিং যেভাবে শক্তিশালী করেছেন নিজস্ব রাজনৈতিক কর্তৃত্ব - আজকের কাগজ
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পুনর্নির্বাচিত ইলহান ওমর শি জিনপিং যেভাবে শক্তিশালী করেছেন নিজস্ব রাজনৈতিক কর্তৃত্ব ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি নতুন শিক্ষাক্রমে তৃতীয় ভাষা: বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের জবাবদিহি চাইবেন ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্যে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ: পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ নিউইয়র্কের প্রথম আফ্রো-লাতিনা মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হলেন শেভালিয়ের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৯৪ সালের করাচি টেস্টে সেলিম মালিকের ফিক্সিং প্রস্তাবের অজানা অধ্যায়

শি জিনপিং যেভাবে শক্তিশালী করেছেন নিজস্ব রাজনৈতিক কর্তৃত্ব

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ৬:৪২ পিএম
শেয়ার করুন

চীনের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে শি জিনপিংয়ের উত্থান কেবল একজন নেতার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতার বিষয় নয়, বরং এটি দেশটির রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের একটি বড় প্রতিফলন। ২০১২ সালে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দল, রাষ্ট্র, সামরিক বাহিনী, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে শি জিনপিংয়ের শক্তি কেবল ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা কঠোর শাসনের ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে শি সেই সম্পর্ককে আরো কেন্দ্রীভূত করেছেন। এর আগে কোনো নেতা এভাবে টানা তৃতীয় মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাননি মাও সেতুং-পরবর্তী সময়ে। সামরিক সংস্কার, আধুনিকায়ন, কমান্ড কাঠামোর পুনর্বিন্যাস এবং রাজনৈতিক আনুগত্য প্রতিষ্ঠা তার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার।

তাঁর ক্ষমতা সুসংহত করার প্রক্রিয়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্টের মেয়াদসীমা তুলে দেওয়া, ২০২২ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা এবং দলীয় সংবিধানে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক দর্শন অন্তর্ভুক্ত করা অন্যতম। কার্নেগি এনডাওমেন্টের ২০২৫ সালের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, দলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্গঠন এবং জাতীয় নিরাপত্তার কাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে শি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছেন। ২০১৮ সালে চীনের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের পরপর দুই মেয়াদের সীমা তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে শি জিনপিংয়ের তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সাংবিধানিক বাধা দূর হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগও এই প্রক্রিয়ার অংশ।

শি জিনপিংয়ের ক্ষমতার অন্যতম প্রধান কৌশল হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কমিউনিস্ট পার্টির কর্তৃত্বকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। আগে থেকেই দল ও রাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র থাকলেও বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের তুলনায় দলীয় নেতৃত্বের প্রভাব অনেক বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। এতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নির্দেশনা কার্যকর করার সক্ষমতা বাড়ে।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে প্রকৃত দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে স্থানীয় কর্মী পর্যন্ত অনেকেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় এসেছেন।

২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষদিকে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেও এই অভিযান জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৩১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলাবিষয়ক সংস্থাগুলো ৮১ লাখের বেশি তদন্ত সম্পন্ন করেছে এবং প্রায় ৭৯ লাখের বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক পদে বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া শির অন্যতম কৌশল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে প্রাদেশিক পর্যায় পর্যন্ত আনুগত্যের বিষয়টি তিনি কঠোরভাবে নিশ্চিত করছেন। তবে ব্রুকিংসের ২০২৬ সালের অক্টোবরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যোগ্যতা বা স্বাধীন চিন্তার চেয়ে আনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ফলে প্রশাসনে সৃজনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার সংকট দেখা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ব্রুকিংসের ২০২৬ সালের অক্টোবরের বিশ্লেষণে শীর্ষ নেতৃত্বে ধারাবাহিক পরিবর্তন এবং আস্থাভিত্তিক নিয়োগের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে। শির দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে মূলত দলীয় কাঠামোয় তার অবস্থান এবং উত্তরসূরি নির্ধারণের অনিশ্চয়তার কারণে। তবে এর ফলে সামরিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও যুদ্ধপ্রস্তুতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। লোই ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের বিশ্লেষণে শির বৈশ্বিক কৌশলের পেছনে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সামরিক শক্তি এবং জাতীয় পুনর্জাগরণের আকাঙ্ক্ষার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

সামরিক বাহিনীর ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাও তাঁর ক্ষমতার আরেকটি বড় খুঁটি। কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতৃত্বে রয়েছেন। সিএসআইএসের ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর গবেষণা ও অন্যান্য তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে শতাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা তদন্তের মুখে পড়েছেন, যা বাহিনীর ওপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করারই ইঙ্গিত দেয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চীনের দুই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ঝাং ইউশিয়া ও লিউ ঝেনলিকে তদন্তের আওতায় আনার ঘোষণা আসে।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও তথ্যপ্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামো ব্যবহার করছে বেইজিং। মেরকেটর ইনস্টিটিউট ফর চায়না স্টাডিজের (মেরিকস) গবেষণায় দেখা গেছে, কমিউনিস্ট পার্টি স্থানীয় সম্প্রদায় থেকে শুরু করে বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সর্বত্র নিজেদের উপস্থিতি ও প্রভাব বিস্তার করেছে। এমনকি দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে শুধু সীমান্ত সুরক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও তথ্যের ওপরও বিস্তৃত করা হয়েছে। ডিজিটাল নজরদারি, মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিকদের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণক্ষমতা বেড়েছে। এর ফলে রাষ্ট্রের পক্ষে নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা সহজ হচ্ছে। ২০১৫ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইন, ২০১৬ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০১৭ সালের জাতীয় গোয়েন্দা আইন, ২০২১ সালের তথ্য নিরাপত্তা আইন এবং ২০২৩ সালের পাল্টা গুপ্তচরবৃত্তি আইনের সংশোধন এই বিস্তৃত নিরাপত্তাকাঠামোর অংশ। এতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণক্ষমতা বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকে জাতীয় নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকায় চীনের অর্থনৈতিক উপস্থিতি বেড়েছে।

বেসরকারি খাত ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়টি এখন বাধ্যতামূলক পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষণায় এই নীতিকে ‘জিনট্রালাইজেশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে দলীয় নির্দেশনাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। মেরিকসের ২০২৬ সালের গবেষণাও দেখিয়েছে, দেশীয় ও বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয় কৌশলগত লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য দলীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হচ্ছে।

জাতীয় পুনর্জাগরণ বা ‘চীনা স্বপ্ন’কে শির রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে, যা জনগণকে একটি অভিন্ন জাতীয়তাবাদী পরিচয়ে সংগঠিত করতে সহায়তা করে। এই বয়ান তাঁকে তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগরের মতো ইস্যুতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সক্রিয় ও আত্মবিশ্বাসী ভূমিকা পালনে সাহায্য করছে। তবে জাতীয়তাবাদী আবেগকে অতিরিক্ত রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করলে ভিন্নমত ও আন্তর্জাতিক সমঝোতার পরিসর সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেইজিংয়ের প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও অবকাঠামো বিনিয়োগে চীন এখন সরব। ব্রুকিংসের ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এর বিশ্লেষণ অনুসারে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ব্যাপক রদবদল ও অপসারণের মাধ্যমে শি নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেও, এই নতুন কাঠামোতে বিশ্বস্ত ও দক্ষ নেতৃত্বের ভারসাম্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর