
সরকারি বাঙলা কলেজে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ “অটো রেল ক্রসিং” শিরোনামের একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে কলেজ পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। উক্ত বিজ্ঞান মেলায় প্রায় ২৫-৩০টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়, যার মধ্যে ১ম স্থান অর্জন করে প্রাণীবিদ্যা বিভাগ, ২য় স্থান অর্জন করে অর্থনিতী বিভাগ এবং দার্থবিজ্ঞান বিভাগের ‘অটো রেল ক্রসিং’ প্রকল্পটি তৃতীয় স্থান অর্জন করে। বিভাগের পাঁচজন মেধাবী শিক্ষার্থী—জিতু, আবু রজিন, ফারহান, সিদ্দিক ও সাহিন—সম্মিলিতভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কলেজের গর্ব হয়ে উঠেছে।
প্রকল্পটি একটি স্বয়ংক্রিয় রেলগেট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, যা রেল দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত প্রযুক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিচারকমণ্ডলী প্রকল্পটির উদ্ভাবনী ভাবনা, কার্যকারিতা ও বাস্তব জীবনে প্রাসঙ্গিকতাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন।
এই অর্জনের পেছনে ছিল পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সার্বিক সহায়তা এবং নিবেদিত শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতা। শিক্ষার্থীদের সক্রিয়ভাবে দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান করেছেন বিভাগের সম্মানিত বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তাসলিমা ফেরদৌস।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক সহযোগিতাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংকোচবোধ সৃষ্টি হলেও, তা পরবর্তীতে আশ্বস্ত করেন নিজ বিভাগের শিক্ষকরা। যেখানে কলেজ প্রশাসন প্রতিটি বিভাগ বা প্রকল্পের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল, সেখানে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকরা তাঁদের নিজস্ব ফান্ড থেকে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করেন, যা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীলতা লক্ষ্য করে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক জনাব তাহারিন হক বলেন, “এই সাফল্য আমাদের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দায়িত্বশীলতারই প্রতিফলন। আমি তাদের পাশে থাকতে পেরে গর্বিত।”
পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আরেকজন শিক্ষক জনাব আওলাদ হোসেন সরকার বলেন, “বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা সমাজ, সভ্যতা ও সর্বোপরি মানুষের জীবনযাপনকে সহজ ও সুন্দর করে। আশা করি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের এই উদ্ভাবনী চিন্তা আগামী দিনে জাতীয় পর্যায়ে অবদান রাখবে। তাঁদের এই সৃষ্টিশীল ও ইনোভেটিভ কাজের প্রতি সব সময় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সমর্থন থাকবে।”
সহযোগী অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, “এই প্রকল্পটি শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়, বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে তাঁদের চিন্তার একটি প্রয়োগ। এটা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
সহযোগী অধ্যাপক জনাব মো: শরীফুল আরেফিন বলেন, “ছাত্রদের এমন উদ্ভাবনক্ষমতা প্রমাণ করে তারা ভবিষ্যতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।”
সবশেষে, বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক তাসলিমা ফেরদৌস বলেন, “পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ সবসময় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ও গবেষণামূলক কাজকে উৎসাহিত করে এসেছে। এ সাফল্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টারই ফল।”
>কলেজের অধ্যক্ষও শিক্ষকদের এ ধরনের আন্তরিকতা ও সহযোগিতাকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেছেন। এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে সবার বিশ্বাস।